|

টারটিয়াস বস

১৪ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে ট্রান্সভালের ভারিনিগিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও নর্দার্ন ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নর্দার্ন ট্রান্সভাল ‘বি’ দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। এ পর্যায়ে তিনি দন্ত চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করছিলেন। পাঁচ উইকেট দখল করেন ও পরের বছরগুলো এর উত্তরণ ঘটতে থাকে।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে দূর্দান্ত খেলেন। ২৬.৪০ গড়ে ৪২ উইকেট দখল করেন। এরফলে, জাতীয় দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া গমন করেন ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি মাত্র আড়াই ওভার বোলিং করেন ও প্রতিপক্ষ জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে। এ আসরে তাঁর দল সেমি-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে।

এরপর, বর্ণবৈষম্যবাদ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুণরায় ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১৯৯২ সালে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। পিটার কার্স্টেন, অ্যান্ড্রু হাডসন, অ্যাড্রিয়ান কুইপার, ডেভিড রিচার্ডসন, অ্যালান ডোনাল্ড, মার্ক রাশমেয়ার, মেরিক প্রিঙ্গল, রিচার্ড স্নেল ও হান্সি ক্রোনিয়ে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অ্যালান ডোনাল্ডের সাথে তিনি বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্রায়ান লারা’র উইকেট পান। ঐ টেস্টে তিনি তিন উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ১/৪৩ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫* ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি তাঁর দল। অ্যান্ড্রু হাডসনের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলায় সফরকারীরা ৫২ রানে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ১২ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। ৬ ওভার বোলিং করলেও উইকেট-শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কয়েক বছর ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সরব ছিলেন। মাঝে-মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বমূলক দলের সদস্যরূপে খেলতেন। তবে, আর তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ খেলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২১০ উইকেট পেয়েছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে তিনি দন্ত চিকিৎসক ছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ডারবানে নিজ গৃহের কাছাকাছি দন্ত সেবা প্রদান করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কারেন-অ্যান নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির কবিন ও ইথান নামীয় সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে, করবিন বস নামীয় সন্তান দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে নাটালের ওয়েস্ট ভিল এলাকায় মাত্র ৩৩ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। গুইলেইন-ব্যারে উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে, তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যাবৃত রয়ে যায়। ময়না তদন্তে বিষ প্রয়োগের কথা জানানো হয়।

Similar Posts

  • | | |

    অশঙ্কা গুরুসিনহা

    ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের…

  • |

    ডেভ নোর্স

    ২৫ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে ইংল্যান্ডের সাউথ নরউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের…

  • |

    উইলি ওয়াটসন, ১৯৬৫

    ৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যতম মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। স্ট্যাম্প বরাবর নিখুঁততার সাথে বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিবলি ডবলি পেসার্স’ ডাকনামে আখ্যায়িত ক্রিস হ্যারিস ও…

  • | |

    জর্জ হ্যাডলি

    ৩০ মে, ১৯০৯ তারিখে পানামার কোলনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পানামার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম। ১৯১৯ সালে মাতা তাঁর জন্মস্থান জ্যামাইকায় তাঁকে প্রেরণ করেন। তাঁকে ইংরেজী ভাষী বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর হয়। সেখানেই…

  • |

    তাইজুল ইসলাম

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনেক বামহাতি স্পিনারের ভীড়ে অন্যতম সেরা ছিলেন। বলকে বড় ধরনের বাঁক খাওয়াতে না পারলেও নিখুঁততা বজায় রাখতেন। এরই মাঝে বেশ…

  • |

    প্রবীণ আম্রে

    ১৪ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শচীন তেন্ডুলকর ও বিনোদ কাম্বলি’র প্রশিক্ষক রামাকান্ত আচরেকরের তীক্ষ্ণ নজরে ছিলেন। আকস্মিকভাবেই ক্রিকেটের সাথে পরিচিত হন। শৈশবকাল থেকেই সুপরিচিত শিবাজী পার্কে…