২৯ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হন। ভিক পোলার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে দুই ঘণ্টার বেশী সময় নিয়ে মাত্র ৯ রান তুলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ঘণ্টায় অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলেন। এর পরই তিনি ছন্দ ফিরে পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ঐ সফরে ৩২.৮৩ গড়ে ২৬৩ রান তুলেছিলেন।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ৩৯ ও ০ রান করে উভয় ইনিংসে জেফ জোন্সের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
কিন্তু, ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারত থেকে অসুস্থতার কবলে পড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার পর পরবর্তী টেস্টের জন্যে ছয় বছর প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলায় গ্রাহাম ডাউলিংয়ের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। গায়ানায় সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ১৮২ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে প্রথম উইকেট জুটিতে গ্লেন টার্নারের সাথে ৩৮৭ রান তুলেন। ঐ সিরিজে ৪৬.১৬ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করেন। কিন্তু, দেশে ফিরেই ছন্দহীনতার কবলে পড়েন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পাঁচ ইনিংসের তিনটিতেই শূন্য রানে বিদেয় নেন। এরফলে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামলেও প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের বলে এলবিডব্লিউতে শূন্য রানে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর স্কাই টিভি নিউজিল্যান্ডের সহঃপ্রতিষ্ঠাতা হন ও ঘোড়দৌড়ের উপযোগী খামার পরিচালনা করেন।
