টেড ওয়েইনরাইট

৮ এপ্রিল, ১৮৬৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের টিনস্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮ থেকে ১৯০২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৮ সালে ইয়র্কশায়ারের প্রথম একাদশের খেলার সুযোগ পান। তবে, নিজেকে মেলে ধরতে বেশ কিছু সময় নেন। ব্রাডফোর্ডে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ১০৫ রানের ইনিংসের কল্যাণে নিজের পরিচিতি ঘটান। প্রথম বছর তেমন রান তুলতে পারেননি। বোলার হিসেবে ইয়র্কশায়ারের প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে পর্যাপ্ত সফলতার সন্ধান পান ও দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে যান।

পরের বছর ব্যাটসম্যান হিসেবে উত্তরণ ঘটান। তবে, বোলার হিসেবেই ফিরে যান। সচরাচর, এ অবস্থানে তিনি যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন তা মূল্যায়ণ করা সম্ভব নয়। ১৮৯০ সালে পুরোপুরি বিপরীতধর্মী অবস্থানে চলে যান। ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীয় কাউন্টির পক্ষে খুব কমই সফল হয়েছিলেন। আটাশ খেলা থেকে মাত্র ৫১৪ রান তুলেন। তবে, বোলার হিসেবে বেশ সফল ছিলেন। ১৩.৭১ গড়ে ৯৭ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৮৯১ সালে ইয়র্কশায়ারের বিপর্যয়কর ফলাফল সত্ত্বেও তিনি বোলার হিসেবে সফল ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি খেলাগুলোয় সাতষট্টি উইকেট পেয়েছেন ও কাউন্টির সাথে থেকে ১৩.২০ গড়ে ১০৭ উইকেট পান। এ পর্যায়ে এসেও তাঁর ব্যাটিংয়ের মান অকার্যকর ছিল। ইয়র্কশায়ারের পঁচিশ খেলা থেকে সর্বোচ্চ ৬৮ রান তুলতে পেরেছিলেন। কাউন্টি দলের কার্যকর সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেও প্রতিনিধিত্বমূলক একাদশে খেলার উপযোগী ছিলেন না।

১৮৯৭ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৬১২ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ১৮৯৯ সালে ১৫৪১ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে তেইশবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছেন। ওভালে সারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২৮ রান তুলেছেন। এ পর্যায়ে সপ্তম উইকেটে জর্জ হার্স্টের সাথে ৩৪০ রানের জুটি গড়েন।

১৮৯৩ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। আর্থার মোল্ড, স্ট্যানলি জ্যাকসনবিল লকউডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ০/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ১ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ওভালেও হয়তোবা খেলতে পারতেন। তবে, ইয়র্কশায়ার কমিটি তাঁকে কাউন্টি খেলায় রেখে দেয়।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৯৮ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। £১,৮০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেছিলেন।

১৮৯৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২৮ অক্টোবর, ১৯১৯ তারিখে ইয়র্কশায়ারের পার্ক এলাকায় দীর্ঘদিন রোগে ভোগে ৫৪ বছর ২০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *