৬ জানুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আর্থার ম্যাকডোনাল্ড ও জেন দম্পতির সন্তান ছিলেন। চার্লস স্ট্রিট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী পেস ও যোগ্যতাসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। চাকচিক্যভাব, সৌন্দর্য্যতা ও ছন্দে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দীর্ঘকায় ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৯-১০ মৌসুম থেকে ১৯৩১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯০৯-১০ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে তাসমানিয়ার পক্ষে খেলেন। এরপর, ভিক্টোরিয়ায় চলে যান।
১৯২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৭৮ ও ২/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ৪ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ১১৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯২১ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। টেস্ট সিরিজে ২৭ উইকেট দখল করে বোলিং গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে অস্ট্রেলিয়া দল। এ সফরে ১৫০ উইকেট নিয়ে অসাধারণ বোলারে পরিণত হন।
গ্রিগরি’র সাথে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সেরা ফাস্ট-বোলিং জুটি গড়েন। চার্লস ম্যাককার্টনি’র পর তাঁর টেস্ট ব্যাটিং গড়ে ৪৬ ছিল। তবে, অপরাজিত থাকার কল্যাণেই মূলতঃ এটি হয়েছে। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও তিন টেস্ট খেলেন। অতঃপর, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান। ১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান।
৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৫৫ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৩ ও ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৪৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯২০-এর দশকের পুরোটা সময় জুড়ে কাউন্টি ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটানোর লক্ষ্যে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের পিচে তিনি অধিকতর সফলতা খুঁজে পান। ১৯২২ সালে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে নেলসনের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখানে তিনি তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ২৯৩ উইকেট দখল করেছিলেন। দারুণ সফলতার সন্ধান পান। এরপর, ১৯২৪ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। দলটিতে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত খেলেন। ছয় মৌসুম পূর্ণাঙ্গকালীন ও দুই মৌসুম সংক্ষিপ্তভাবে খেলে সহস্রাধিক উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯২৫ সালে স্বর্ণালী সময় কাটান। ১৯৮ উইকেট নিয়ে কাউন্টি রেকর্ড দাঁড় করান। উপর্যুপরী তিন মৌসুম কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার দলকে সহযোগিতা করেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১০ এপ্রিল, ১৯২০ তারিখে ইস্ট মেলবোর্নের হলি ট্রিনিটি চার্চে এমিলি মার্টল নাম্নী এক রমণীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ছিল। ২২ জুলাই, ১৯৩৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্লেকরড এলাকায় ৪৬ বছর ১৯৭ দিন বয়সে নিহত হন। প্রত্যুষে গাড়ী দূর্ঘটনায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। আড়াই সহস্রাধিক জনতা তাঁর শবানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলারের সম্মাননা হিসেবে এমিরেটস ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে নীরবতা বজায় রাখার মাধ্যমে দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মানিত করে।
