| |

টেড বোলি

৬ জুন, ১৮৯০ তারিখে সারের লিদারহেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জো ভাইন ও জন ল্যাংগ্রিজের সাথে তিনিও সাসেক্সের সর্বশ্রেষ্ঠ পেশাদার ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১২ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে সাসেক্স ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০-এর দশকে সাসেক্স দলের প্রধান ব্যাটিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। সচরাচর, চার নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে ইনিংস উদ্বোধনেও তাঁকে দেখা যেতো। ডানহাতে কার্যকর লেগ-স্পিন বোলিংয়েও বেশ সফল ছিলেন।

১৯১৪ সালে সাসেক্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলার সুযোগ পান। বিশ্বযুদ্ধের পর খেলা শুরু হলে ৩০ বছর বয়সে এসেও কাউন্টি দলটির অন্যতম ব্যাপক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ১৯২০ থেকে ১৯৩৩ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত প্রত্যেক মৌসুমেই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেন। সাসেক্সের পক্ষে সর্বমোট ৪৫৮ খেলায় অংশ নিয়ে ৩৪.৭০ গড়ে ২৫৪৩৯ রান ও ২৫.৬৯ গড়ে ৬৬৭ উইকেট লাভ করেছেন। ৩৯ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯২৯ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩১ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৩২ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

পরবর্তী শীতকালে ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ক্লাবের অধিনায়ক হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তিনটিতে অংশ নেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১০৯ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথম দুই দিন বৃষ্টিবিঘ্নিত হলে চতুর্থ টেস্টের আয়োজন করা হয়।

একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর উইনচেস্টারে চলে আসেন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সেখানে একাধারে ২৩ মৌসুম কিশোরদের প্রশিক্ষণ দেন। এখান থেকেই হুবার্ট ডগার্ট ও পতৌদির জুনিয়র নবাবের ন্যায় খেলোয়াড়ের উত্থান ঘটে। এছাড়াও, উইনচেস্টার কলেজের কোচ ছিলেন ও ক্রীড়াসামগ্রীর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন।

৯ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের উইনচেস্টার হাসপাতালে ৮৪ বছর ৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট