১০ মে, ১৯৫৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
দলীয় সঙ্গী আব্দুল কাদির ও ইকবাল কাশিমের সাফল্যে প্রায়শঃই তাঁর সফলতা ম্লান হয়ে পড়তো। তবে, তিনি দক্ষতা ও বিপক্ষণতা সহকারে অফ-স্পিন বোলিং করেছেন। কোকড়ানো চুল ও গোঁফ সহযোগে তাঁকে অনেকটা লিওনেল রিচি’র ন্যায় দেখাতো। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮০ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৩৪ টেস্ট ও ৭০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে সাত উইকেট দখলের ন্যায় বিরাট সফলতার সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫০ ও ৫/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ শতক সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই মৌসুমের ফিরতি সফরে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৩* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৩/৩২ ও ৬/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় ১৬ রানের জয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। ঐ টেস্টে ব্যাটিং কিংবদন্তী সুনীল গাভাস্কার ৯৬ রান তুলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছিলেন। দুই বছর পর করাচীতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় ৪৭.৪-২৮-৪৪-৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। তাঁর বোলিং গড়ে আব্দুল কাদিরের চেয়ে ভালো ছিল।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১০৬ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও ব্যাট হাতে তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ২১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪৯ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৩১ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০১১ সালে পিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান কোচ হিসেবে হায়দ্রাবাদের দায়িত্বে ছিলেন। তরুণ খেলোয়াড়দের তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।
