৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হারারের প্রতিশ্রুতিশীল লেগ-স্পিনার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। হাইফিল্ডের শহরতলী চেঙ্গু প্রাইমারি স্কুলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। শুরুতে সিম বোলার হিসেবে খেলতেন। তবে, হাইফিল্ড হাই স্কুলের ছাত্রাবস্থায় লেগ-স্পিনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময়ে টাকাশিঙ্গা ক্রিকেট ক্লাবের সাথে যুক্ত হন। টাকাশিঙ্গা মাঠের সাথে যুক্ত থাকায় স্টিফেন ম্যাঙ্গোঙ্গো ও ওয়াল্টার চায়াগুটা’র সাথে পরিচিত ছিলেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন কোন খেলায় অংশ না নিলেও টাকাশিঙ্গার পক্ষে একটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
‘ফফি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, মাউন্টেনিয়ার্স, সাউদার্ন রক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাসভিঙ্গো ও সাউদার্নসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে মুতারেতে ইস্টার্নস বনাম সাউদার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বয়সভিত্তিক কোন স্তরের ক্রিকেটেই জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাননি। তাসত্ত্বেও, অনেকটা আকস্মিকভাবে ১৯ বছর বয়সে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন।
২০০৬ থেকে ২০১৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ১৪টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ তারিখে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রতিপক্ষ দল ৪২০ রানের বিশাল সংগ্রহ করলেও তুলনামূলকভাবে কম ৭০ রান খরচ করেন। লুটস বসম্যান ও জাস্টিন কেম্পের উইকেট দখল করেন।
পরের মাসে ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে ভারত গমন করেন। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ ভালো করেন। তবে, দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের উত্থানের ফরে দলের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর, ২০১৪ সালের পূর্ব-পর্যন্ত আর খেলার সুযোগ পাননি। এ পর্যায়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কেবলমাত্র আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে সাউদার্ন রক্সের পক্ষে বেশ ভালোমানের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চলেছেন। ফলশ্রুতিতে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চমৎকার খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সফরের জন্যে মনোনীত হন। ঐ বছরের শেষদিকে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন ও পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে দলে যুক্ত হন। পাঁচটি একদিনের খেলা থেকে আট উইকেট দখল করেন ও ওভারপ্রতি চারের অধিক রান তুলেন। এরফলে, জাতীয় দলে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের অধিনায়কত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৫ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক হয়। তাঁর দল তিন উইকেটে পরাজিত হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫১ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অফ-স্পিনার জন নিয়ুম্বুকে পিছনে রেখে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।
