|

তাবিশ খান

১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, করাচী ব্লুজ, করাচী ডলফিন্স, করাচী কিংস, করাচী রিজিওন ব্লুজ, করাচী আরবান ও স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০২ সালে ১৭ বছর বয়সে অভিষেকের পর থেকে নিজেকে কার্যকর বোলারে পরিণত করতে খুব বেশী সময় নেননি। খুব শীঘ্রই জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে চলে আসেন। তবে, পাকিস্তান দলে পেসারদের প্রাচুর্য্যতায় তাঁকে বেশ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধান প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতা কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে পাঁচ শতাধিক উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। অন্য কেউ এ মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। এ প্রতিযোগিতা ১১৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ৫১৫ উইকেট দখল করেছেন।

১ জানুয়ারি, ২০০৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত দশ বছরে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ২২.০৯ গড়ে ও ৪২.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৪৯৫ উইকেট পেয়েছেন। কেবলমাত্র পুষ্পকুমারা ঐ দশ বছরে ১৯.৪৩ গড়ে ও ৩৬.২০ স্ট্রাইক রেটে তাঁর চেয়ে অধিক উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

২০২১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ঐ বছর বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৭ মে, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকের পূর্বে তিনি ১৩৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কেবলমাত্র খালিদ ইবাদুল্লাহ ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকের পূর্বে ২১৮টি খেলায় অংশ নিয়ে তাঁর পূর্বে অবস্থান করছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের ১৮ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ৩৬ বছর ১৪৬ দিন বয়স নিয়ে ৬৬ বছর পর পাকিস্তানের বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট অভিষেকধারী খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। মিসবাহ-উল-হকের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ লাভ করেন। ১/২২ ও ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, আবিদ আলী’র দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

মালিন্ডা পুষ্পকুমারাকে (৫৫৮) পাশ কাটিয়ে টেস্টে অভিষেকের পূর্বে সর্বাধিক ৫৯৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। সংখ্যার দিকে দিয়ে যে-কোন এশীয় দলের মধ্যে সর্বাধিক। এছাড়াও, ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট অভিষেককালীন টিম মারতাগের ৭১২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। হারারেতে টেস্ট অভিষেকের পূর্বে পাকিস্তানের বাইরে কেবলমাত্র তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। সবগুলোই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলেছেন। এ পর্যায়ে ৮১.৫০ গড়ে চার উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, পাকিস্তানের মাটিতে ২৩.৯১ গড়ে ৫৯৪ উইকেট লাভ করেছেন।

Similar Posts

  • |

    ইউনুস আহমেদ

    ২০ অক্টোবর, ১৯৪৭ তারিখে ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, লাহোর ও পাকিস্তান…

  • |

    এডওয়ার্ড টাইলকোট

    ২৩ জুন, ১৮৪৯ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের মার্সটন মোরটেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্লিফটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। অক্সফোর্ডে থাকাকালীন ব্লুধারী হন। স্ট্যাম্পের কাছাকাছি অবস্থান করে দ্রুতগতির বল থেকে কট কিংবা স্ট্যাম্পিং করার…

  • | | |

    ফ্রাঙ্ক মান

    ৩ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে মিডলসেক্সের উইঞ্চমোর হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ম্যালভার্নে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেন।…

  • |

    রুসি সুর্তি

    ২৫ মে, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের সুরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত, কুইন্সল্যান্ড ও রাজস্থানের…

  • |

    মার্ক উড

    ১১ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নর্দাম্বারল্যান্ডের অ্যাশিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অ্যাশিংটন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার…

  • |

    নিকোলাস থিউনিসেন

    ৪ মে, ১৮৬৭ তারিখে কেপ কলোনির কোলসবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কার্যকর অফ-কাটার প্রয়োগ করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত…