| |

সিড গ্রিগরি

১৪ এপ্রিল, ১৮৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মুর পার্কে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জন্মসনদে তিনি এডওয়ার্ড সিডনি গ্রিগরি নামে পরিচিত ছিলেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। পিতা নেড গ্রিগরি ১৮৭৭ সালে এমসিজিতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে খেলেছেন ও কাকা ডেভ গ্রিগরি ঐ খেলায় অধিনায়কত্ব করেছিলেন। ভ্রাতৃষ্পুত্র জ্যাক ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বাপেক্ষা ভীতিদায়ক বোলার ছিলেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৯০ থেকে ১৯১২ সময়কালে সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৫৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। নেড গ্রিগরি’র জ্যেষ্ঠ সন্তানরূপে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী টেস্টের তেরো বছর পর প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পান। ২২ বছরব্যাপী স্থায়ী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৮৯০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কেনি বার্ন, হিউ ট্রাম্বল, জ্যাক বারেট ও পার্সি চার্লটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪৭ রান জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়।

১৮৯৬ সালে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে মনোরম শতক হাঁকান এ পর্যায়ে চতুর্থ উইকেটে দলীয় অধিনায়ক হ্যারি ট্রটের সাথে ২২১ রানের জুটি গড়েন। তাঁদের এ সংগ্রহটি যে-কোন উইকেটে তৎকালীন নতুন রেকর্ড ছিল। খেলায় তিনি ১৪ ও ১০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করে চার্লি লিউইলিনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯১২ সালে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে অজি দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে চার শতক সহযোগে ২৪.৫৩ গড়ে ২২৮২ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছিলেন ২০১ রান। ১৯১২ সালে অবসর গ্রহণকালীন ৫৮ টেস্টে অংশ নিয়ে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।

চারজন অস্ট্রেলীয় পিতা-পুত্র দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, নেড ও সিড গ্রিগরি অন্যতম ছিলেন। ১৮৭৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার গৌরব অর্জন করেছিলেন তাঁর পিতা নেড গ্রিগরি। ঐ খেলায় সাত নম্বরে ব্যাটিং করে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন নেড গ্রিগরি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ রান তুলতে সমর্থ হন ও দলকে ১০৪ রান তুলতে যথার্থ ভূমিকা রাখেন। ঐ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দল জয়লাভ করলেও তাঁকে আর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।

উইলফ্রেড রোডসবিনু মানকড়ের সাথে টেস্টের ইতিহাসের তিনজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে প্রথম থেকে শেষ অবস্থানের প্রত্যেকটিতে ব্যাটিং করে অনবদ্য রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৮৯৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

৩১ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মুর পার্কে ৫৯ বছর ১০৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    চার্লস পাসাইলাইগু

    ৪ আগস্ট, ১৯০১ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সব মিলিয়ে মাত্র ১২টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট…

  • | |

    গ্রায়েম হোল

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কনকর্ড ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। এরপর, নর্থ সিডনি বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন…

  • |

    হেনরি ফোলি

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওয়েলিংটন কলেজে ভর্তি হন। এরপর, ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে কলায় স্নাতক ও বাণিজ্যে স্নাতকধারী হন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩২-৩৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয়…

  • |

    মার্কুইনো মিন্ডলে

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে…

  • |

    স্ট্যানলি স্নুক

    ১১ নভেম্বর, ১৮৭৮ তারিখে টেম্বুল্যান্ডের সেন্ট মার্কস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বোলিংয়ে বেশ পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৪-০৫ মৌসুম থেকে ১৯২০-২১ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | | |

    বেভান কংডন

    ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮ তারিখে তাসমানের মতুয়েকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালনসহ তুখোড় নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং কৌশল গ্রহণের অধিকারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে নিজেকে যথোচিত মেলে ধরতেন। বেশ…