৩০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
স্বাধীন ভারতের প্রথম অধিনায়ক লালা অমরনাথের সন্তান তিনি। তবে, স্বীয় কনিষ্ঠ ভ্রাতা মহিন্দার অমরনাথের অর্জনের পার্শ্বে তিনি বেশ বেমানান ছিলেন। তাসত্ত্বেও, তাঁর দিক থেকে তিনি ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছেন। দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকপ্লে মারতেন। টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিতি লাভ করেন। লর্ডসে এমসিসি স্কুলসের বিপক্ষে দর্শনীয় খেলা উপহার দেন। ইন্ডিয়া স্কুলসের সদস্যরূপে তিন বলে ১১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় প্রথম দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, টেস্ট অভিষেকের সাত বছর পূর্বেই কনিষ্ঠ ভ্রাতা মহিন্দার অমরনাথ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, গুজরাত ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ৪০ গড়ে ৮,১৭৫ রান তুলেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অভিষেক ঘটে। এর তিন বছর পরই অবশ্য বিদ্যালয় বালকদের সফরে স্মরণীয় সাফল্য পান। ১৯৬৭ সালে ভারতের বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরেই তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে। সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন।
১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে দিল্লি দলের প্রধান পরিচালনা শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ঐ দশকে বেশ ভালো খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেন। দুইটি দ্বি-শতক সহযোগে ৫৫ গড়ে ৯৩৮ রান তুলেন। এ সময়ে তিনি কেন টেস্ট দলের সদস্য ছিলেন না তা বেশ রহস্যপূর্ণ হিসেবে রয়ে যায়। ২৭ বছর বয়সে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে শতক হাঁকিয়ে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। ১১৮ রান তুলেছিলেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে ১০ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা পর্বটিও একইভাবে শুরু হয়। কিন্তু, সামগ্রীকভাবে নিরাশ করেন। এছাড়াও, দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকার হয়েছিলেন।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দিলীপ বেঙ্গসরকার ও সৈয়দ কিরমানি’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টেই দারুণ শতরানের ইনিংস খেলেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এরফলে, প্রথম ও একমাত্র ঘটনা হিসেবে পিতা-পুত্র উভয়েই অভিষেক টেস্টে শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। এ পর্যায়ে দলনায়ক সুনীল গাভাস্কারের সাথে ২০৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ পিতা লালা অমরনাথ সাফল্য পেলেও তিনি আর কোন শতরানের ইনিংস খেলতে পারেননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ১২৪ ও ৯ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে ১২৪ রান তুলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নেন। চার ইনিংসের দুইটিতে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। টেস্টে আর শতক হাঁকাতে না পারলেও নিজ দেশে ৬৩, ১৪, ৪০ ও ৬৩ রান তুলেছিলেন। এরফলে, ঐ সিরিজে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থানে থাকেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে মনোনীত হন। তবে, আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে বেশ আগেভাগেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল।
নিজস্ব শেষ টেস্ট সিরিজেও তেমন মন্দ খেলেননি। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে বিষেন বেদী’র অধিনায়কত্বে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩০ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ভারত দল ৮ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল। ঐ সিরিজে ভারত দল তেমন সুবিধে করতে পারেননি। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পরাভূত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট খেলেন।
এরপূর্বে, ২৭ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দারুণ খেলেন। ইমরান খান ও সরফরাজ নওয়াজের ন্যায় বোলারদের মোকাবেলা করে ৬০ রান তুলেন। প্রথম ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।
এরপর দল থেকে বাদ পড়েন ও আর খেলার জন্যে উপযুক্ত বিবেচিত হননি। এছাড়াও, ঐ সফরে তিনটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, ৩ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে শাহিওয়ালের পরিত্যক্ত খেলায় ৬২ রান তুলেছিলেন। পাকিস্তানী বোলারদের শর্ট পিচ বোলিংয়ের বিপক্ষে দলনায়ক বিষেন বেদী স্বীয় অবস্থান তুলে ধরেন। সরফরাজ নওয়াজের শেষ চার বলের সবকটিই ব্যাটসম্যানের নাগালের বাইরে ছিল ও আম্পায়ার ওয়াইড ঘোষণা করেননি। ফলে খেলা থেকে ব্যাটসম্যানদের চলে আসতে বলেন।
অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকেরই অভিমত যে, তিনি ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকার হয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে দিল্লির সদস্যরূপে তারকাসমৃদ্ধ বাদ-বাকী ভারতের বিপক্ষে ২৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে তাঁর অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে জনমত গড়ে উঠলেও দল নির্বাচকমণ্ডলী আবারও তাঁকে দলের বাইরে রাখে। ২৩৫*, ১০৪, ২৮ ও ১৪৪ রান তুললে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলাপ চলতে থাকে। বাংলা ক্রিকেট সংস্থা জয়ন্তী একাদশের সদস্যরূপে প্রায় টেস্ট পর্যায়ের অনুরূপ ইংরেজ দলের বিপক্ষে নিখুঁত ১৪০ রান করেন। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলতেন। একাধারে চারবার দিল্লি দলকে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। তন্মধ্যে, তাঁর দল তিনবার শিরোপা জয় করেছিল।
ডানহাতি হলেও বামহাতে ব্যাটিং করতেন। সব মিলিয়ে ১৪৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪০.৪৭ গড়ে ৮১৭৫ রান তুলেছিলেন। মাত্র ১৬টি শতক হাঁকিয়েছেন। টেস্টগুলো থেকে ৩০.৫৫ গড়ে ৫৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রঞ্জী ট্রফিতে ৪১.২৪ গড়ে ৪২০৬ রান পেয়েছেন।
তাঁর ভ্রাতা মহিন্দর অমরনাথ ভারত ও দিল্লি এবং কনিষ্ঠ ভ্রাতা রাজিন্দর অমরনাথ হরিয়ানার পক্ষে খেলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। পুত্র দিগ্বিজয় অমরনাথ শ্রীলঙ্কায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন।
