| |

সুরেন্দ্রনাথ

৪ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত প্রকৃতির স্বল্পসংখ্যক ভারতীয় সিমারদের অন্যতম হিসেবে সুইং ও অসম্ভব দম সহযোগে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। উপযোগী পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করতে পারতেন। তাঁর ইন-সুইং প্রায়শঃই ব্যাটসম্যানদের মোকাবেলা করতে বেগ পেতে হতো। বলকে উভয় দিক দিয়েই খেলতে পারতেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সার্ভিসেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

প্রথম মৌসুমে বোম্বে দলের পক্ষে খেলেন। একাধারে ৩৪ ওভার বোলিং করে বিরাট দমের পরিচয় দেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন। অপরিবর্তিত অবস্থায় বোলিং করে ৬/১০ পান ও প্রতিপক্ষ পাতিয়ালাকে ৩৫ রানে গুটিয়ে দেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে কলকাতায় ‘চার অধিনায়কের সিরিজে’ অংশ নেন। রামনাথ কেনি’র সাথে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথমবারে বোলিংয়ে নেমেই জন হল্টকে বিদেয় করেন। রোহন কানহাইকে বিদেয় করলেও ততক্ষণে তিনি ২৫৬ রানের বড় ধরনের ইনিংস খেলে ফেলেছেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৩৩৬ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে তিনি উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে, এর পরপরই রেলওয়ে দলের বিপক্ষে ৭৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট লাভ করেন। এরফলে, ১৯৫৯ সালের ইংল্যান্ড সফরে শোচনীয় ব্যর্থতায় নিজেকে শামিল করেন। এ সফরে ২৯ গড়ে ৭৯ উইকেট দখল করে সুভাষ গুপ্তে’র পরের স্থানে চলে আসেন। ঐ সিরিজে ভারত দল ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। তাসত্ত্বেও, তিনি মনেপ্রাণে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। লর্ডসে ৪/৭৮ লাভের পর ওল্ড ট্রাফোর্ড ও ওভালে পাঁচ-উইকেট করে পান। তন্মধ্যে, লর্ডসে পিটার মে’র উইকেট লাভের বিষয়টি দৃষ্টিনন্দন ছিল। অফ-সাইডে ফেলা বলটি বাঁক খেয়ে লেগ-স্ট্যাম্প স্পর্শ করে। ওভালে এক ইনিংসে ৫১.৩ ওভার বোলিং করে। লেগ স্ট্যাম্প বরাবর বল ফেলে রানের স্রোতধারা রুদ্ধ করেন। একই মাঠে সারের বিপক্ষে ৫/৪৯ ও ৪/২৮ পান।

নিজ দেশেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে অন্যতম সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসেন। ইডেন গার্ডেন্সে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে ৪০ ওভার বোলিং করেন। নিষ্প্রাণ পিচ থেকে ৪/৯৩ পান। এরপর তিনি আর একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঐ ইনিংসে ৩৮ ওভার বোলিং করেন। কিন্তু, মনসুর আলী খান পতৌদি কৌশলগত কারণে দলে তিন থেকে চারজন স্পিনারকে সুযোগ দিলে এক পর্যায়ে তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফজল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১/৯৯ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় গড়াতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৪১ গড়ে ২৬ উইকেট দখল করেছেন। নিজ দেশে ৬ টেস্টে ৬৩ গড়ে ১০ উইকেট পেয়েছেন। বিদেশের মাটিতে পাঁচ টেস্টের সবগুলোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ২৭ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দারুণ খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫ গড়ে ২৭৮ উইকেট পান। অধিকাংশই সার্ভিসেস দলের সদস্যরূপে পেয়েছেন। ৩১ বছর বয়সে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। এর পূর্বের দুই মৌসুম থেকে ১৫ গড়ে ৩৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদবীধারী ছিলেন। ভারত দলের ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৫ মে, ২০১২ তারিখে নয়াদিল্লিতে ৭৫ বছর ১২২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জাস্টিন গ্রিভস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট জেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস…

  • |

    অভিনব মুকুন্দ

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    আলফ্রেড বিন্স

    ২৪ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬…

  • |

    ট্রাভিস হেড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৯ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন। চমৎকার নেতৃত্বের গুণাবলীর অধিকারী। পরিচ্ছন্ন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।…

  • | | |

    রশীদ লতিফ

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে মুহাজির পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উইকেট-রক্ষণ ও ডানহাতে ব্যাটিং করে উভয় বিভাগেই সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে এক দশকের অধিক সময় পাকিস্তান…

  • | | | | |

    ক্লাইড ওয়ালকট

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের নিউ অর্লিয়েন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ক্লাইড ওয়ালকট বার্বাডোসভিত্তিক হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…