২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
টারডিও এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নয় ভাই-বোনের অন্যতম ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। টেনিস বলে আন্ডার আর্ম ক্রিকেট খেলেন। টারডিওর চিকলাদিতে ক্রিকেট খেলাকালীন সুনীল গাভাস্কার, মিলিন্ড রেগে ও শারদ হাজারে’র ন্যায় কাঁধ বাঁকিয়ে খেলতেন। দশম গ্রেডে থাকাকালীন জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার নির্দেশে বিখ্যাত তারকা ক্রিকেটার বিনু মানকড়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এরপর থেকে বিনু মানকড়ের পরামর্শক্রমে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু হয় তাঁর। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে রূপারেল কলেজে ভর্তি হন। খুব শীঘ্রই বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ‘আমার খেলোয়াড়ী জীবনের প্রকৃত সূত্রপাত ঘটে এখান থেকেই।’
সর্বদাই নিজেকে পড়ুয়া ছাত্র হিসেবে পরিচিতি ঘটাতেন। ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ না করলে বইয়ের রাজ্যে তাঁকে ডুবে যেতে দেখা যেতো। অবসরকালীন পড়াশোনায় মনোনিবেশ ঘটাতেন। ‘এমনকি আমি যখন ক্রিকেট সফরে যুক্ত থাকতাম, তখনও সাথে বই রাখতাম ও পড়াশুনো করতাম। প্রতিদিন সকাল পাঁচটায় উঠে ঘণ্টা দুয়েক অধ্যয়ন করতাম।’
ফলশ্রুতিতে, জৈব রসায়ন বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রী লাভের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিস্ময়ের কোন কারণ ছিল না। প্রথম-শ্রেণী লাভ করেন। ভালোমানের ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেট পিচের চেয়ে সর্বদাই নিজেকে কোম্পানির প্রধান হিসেবে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে তাঁকে থাকতে দেখা যায়। বাস্তবতা ছিল যে, ‘আমার প্রধান উদ্দেশ্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিজেকে দেখা। ঐ সময়ে ক্রিকেটে অর্থের কোন উৎস ছিল না।’
অনেকটা আগেভাগেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন ও বোম্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় ভিজেটিআইয়ে ভর্তি হন। কিন্তু, এরজন্যে তাঁকে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন ছেড়ে দিতে হয়। মাধব আপ্তে তাঁকে একদা বলেছিলেন যে, ‘দেশে অনেক প্রকৌশলী রয়েছেন, তবে খুব কমই ভারতের পক্ষে খেলেছেন ও তুমিও তাঁদের একজন। তোমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ দিয়ে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করতে হবে। পিতা-মাতা ও মাধব মন্ত্রী’র ন্যায় অন্যান্য ক্রিকেটারের সাথে আলোচনা শেষে মাধব আপ্তে’র পরামর্শ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।’
১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের সদস্যরূপে খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের পুরোটা সময় বিচক্ষণতার সাথে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খুব সম্ভবতঃ বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে উপর্যুপরী দুই বছর – ১৯৬৭ ও ১৯৬৭ সালে পুলিশ শীল্ড ও মহীন্দ্র শীল্ডের শিরোপা জয়ে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। খুব শীঘ্রই বোম্বের কিশোর দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন ও পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠদের দলে যুক্ত হন। রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন
১৯৭৪ সালে ভারতের পক্ষে মাত্র তিনটি টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৪ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৭৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৮ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে লিডসে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কলকাতায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮৫ রানে জয় পায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের কিউরেটর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, অন্যান্য পেশাদারী পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ৫ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে ৭৮ বছর ৪৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
