১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের প্রথমদিকের প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁকে ঘিরে ভারতীয় দলে বেশ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছিল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা, বিহার ও পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি একাদশ, বহিঃভারত ও উইলস একাদশের পক্ষে খেলেন। ১৯৯০ সালের শুরুতে বিহারের সদস্যরূপে ৭/১৮ ও ৫/৫৮ নিয়ে ত্রিপুরা দলকে ধ্বংসস্তুপে নিয়ে যান। ফাস্ট বোলিং জগতে আশা জাগান।
১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। বাউন্স উপযোগী উইকেটে তাঁর বোলিংয়ের সহায়তা লাভের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেই দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে পার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
ঐ সফরে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পরিবর্তিত পিচে নিয়মিত স্পিনার বেঙ্কটপতি রাজু’র পরিবর্তে দলের চতুর্থ পেস বোলার হিসেবে তাঁকে দলে রাখা হয়। জবাগল শ্রীনাথের প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে খেলে জিওফ মার্শ, মার্ক টেলর ও মার্ক ওয়াহকে বিদেয় করে ৩/৪৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলীয়দের উইকেট লাভে স্পিনারদের চেষ্টা চালানো হয়। তাঁকে কোন বোলিংয়ের সুযোগই দেয়া হয়নি। তবে, রবি শাস্ত্রী’র অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, এটিই তাঁর একমাত্র টেস্টে পরিণত হয়।
তুলনামূলকভাবে ওডিআই অভিষেক পর্বটি বেশ সফল হয়েছিল। পার্থের দ্রুতগতিসম্পন্ন পিচে ৩/৩০ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ১২৬ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। ঐ খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয়েছিল। বেনসন এন্ড হেজেস সিরিজ ও এর অব্যবহিত পরই বিশ্বকাপের খেলাগুলো থেকে তেমন উইকেট পাননি। তবে, নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে দলের ভিত গড়তে যথেষ্ট সহায়তা করেন। বেশ স্বাধীনভাবেই স্ট্রোক মারার সক্ষমতা দেখান। পার্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ বলে ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে দলের বেশ কয়েকজন ফাস্ট বোলারের অন্যতম হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। কম্বাইন্ড বোল একাদশের বিপক্ষে কপিল দেবের সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামেন। কপিল দেব ১/২৯ ও ১/১৬ নিলেও তিনি ৩/৪১ ও ৫/২৯ নিয়ে ভারতীয় একাদশকে এ সফরে স্বল্পসংখ্যক প্রথম-শ্রেণীর খেলায় বিজয় লাভে অংশ নেন। তাসত্ত্বেও, তাঁকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি। একটি ওডিআইয়ে তাঁকে ৩ ওভার বোলিং করার সুযোগ দেয়া হয়। এভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের অবসান ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ১৪.৫৫ গড়ে ৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষার শিকার হলেও ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলতে থাকেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের দূর্দান্ত স্বাক্ষর রাখেন। দিলীপ ট্রফি প্রতিযোগিতায় পূর্বাঞ্চলের সদস্যরূপে পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে ৬/৪৮ বোলিং করেন। তাসত্ত্বেও, আর কখনো ভারত দলে খেলার জন্যে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়নি।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। উমেশ যাদব, অর্জুন তেন্ডুলকরকে প্রশিক্ষণ দেন।
