|

সুব্রত গুহ

৩১ জানুয়ারি, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে দূর্দান্ত আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতেন। এছাড়াও, উপযোগী পরিবেশে দারুণ বল করতেন। বিপজ্জ্বনক অফ-কাটারের সাথে নিখুঁতভাবে বজায় রাখতেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব সহজেই বাংলার পক্ষে সেরা সিমারের মর্যাদা লাভ করেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতের কারণে দূর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেলে ধরতে পারেননি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০ গড়ে ২৯৯ উইকেট পেয়েছেন যা বেশ দর্শনীয় ছিল। কিন্তু, রঞ্জী ট্রফিতে নিজেকে আরও এক ধাঁপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বিস্ময়কর ১৬ গড়ে ২০৩ উইকেট দখল করেন।

বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের ক্রিকেটে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেন। পরিচিতি পাওয়া স্পোর্টিং ইউনিয়নের পক্ষেও খেলেছেন তিনি। এরপর থেকে ক্রমাগত এগিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির সেমি-ফাইনালে বোম্বের বিপক্ষে ৭/৫৯ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ভারতে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলেন। কম্বাইন্ড সেন্ট্রাল এন্ড ইস্ট জোন্সের সদস্যরূপে চুনি গোস্বামী’র সাথে দলের ইনিংসে বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। খেলায় তিনি ১১৩ রান খরচায় ১১ উইকেট ও চুনি গোস্বামী ৯৭ রান খরচায় ৮ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে তাঁকে ভারত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৪/৪৩ পান। ফলশ্রুতিতে, ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। রমেশ সাক্সেনা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ঐ খেলায় তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ঐ টেস্টে তাঁর দল ছয় উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ৫/৭৩ পেয়েছিলেন। ঐ সফরে ৩৫ গড়ে ২২ উইকেট লাভ করেন। হাঁটুর আঘাতের কারণে খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেন ও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটায়। দেশে ফিরে বাংলা দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে অগ্রসর হন ও দলকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। ১৫ গড়ে ২০ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, বোম্বেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে বিজয় মার্চেন্টের অনুরোধক্রমে তাঁকে খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়। কানপুর টেস্টে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ২/৬২ পান তিনি। দিল্লিতে বিল লরি’র স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন। তজ্জন্যে অবশ্য তাঁকে ১৬ ওভার বোলিং করতে হয়েছিল।

এরপর, ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ৪ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ৮০ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে তাঁকে ভারত দলে রাখা হয়। তবে, বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এ সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর কোন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ১০৪ গড়ে মাত্র ৩ উইকেট পান। ৮ ইনিংসে বোলিং করে ছয়টিতেই উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে হয়েছিল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই তাঁর প্রতাপ বহাল থাকে। বিহারের বিপক্ষে বোলিং অপরিবর্তিত রেখে ৫/২৮ ও ৫/২১ পান। এরফলে, প্রতিপক্ষের ৭৩ ও ৩৭ রানে গুটিয়ে ফেলতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। পরের খেলায়ও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। আসামের বিপক্ষে ৭/১৮ নিয়ে ৫৩ রানে গুটিয়ে দেন।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ৪/৩৫ পান। ৩০ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হন। হাঁটুর আঘাতের কারণে খেলা থেকে দূরে সড়ে যান। তবে, অফিস ও ক্লাব ক্রিকেটে ঠিকই তিনি চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় চাকুরী করতেন। শেষের বছরগুলো বোম্বেতে পাড় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। নীলম ও কুনাল নামীয় দুই সন্তানের জনক। হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হলে ৫ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে ৫৭ বছর ২৭৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ম্যাট হেনরি

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘হেন্নাজ’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। মারিস্ট হেয়ারউড ক্লাবে খেলেছেন। ২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও…

  • |

    পম পম ফেলোস-স্মিথ

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে…

  • | |

    গ্যারি সোবার্স

    ২৮ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে বার্বাডোসের চেলসী রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    অমর সিং

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আলফ্রেড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৯-৪০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    রাসেল আর্নল্ড

    ২৫ অক্টোবর, ১৯৭৩ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে টেস্ট খেলেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    গুরুশরণ সিং

    ৮ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। দীর্ঘদিন পাঞ্জাব দলের অন্যতম ব্যাটিং…