১৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।
২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ৯ জুলাই, ২০১২ তারিখে ডাবলিনে সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এরপর দ্রুতলয়ে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত হন। বড়দের দলে অংশগ্রহণের পূর্বে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সদস্যরূপে খেলেছিলেন। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে উগান্ডার বিপক্ষে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে পড়েন।
২০১৩ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ২০টি ওডিআই ও ৪১টি টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত সফররত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০১৪ সালের শুরুরদিকে টেস্টভুক্ত দলের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বল প্রতি ৩৩ রান তোলার পাশাপাশি ২/১৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পুরো গ্রীষ্ম জুড়েই স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। সেপ্টেম্বরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে একই ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে, শরৎকালে একেবারেই চুপসে যান। আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আটটি খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ২৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তাসত্ত্বেও কোচ ফিল সিমন্স তাঁর ওপর আস্থা রাখেন। এরফলে, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
২০১৬ সালে খেলার মান দূর্বলতর হতে থাকলে স্বেচ্ছায় দলের বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অভিজ্ঞদের সহায়তা নেই। এখন আমি আমার সম্বন্ধে সজাগ আছি ও কিভাবে উত্তরণ ঘটাতে হবে সে সম্পর্কে অবগত আছি।’
দুই মাস পর পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সহায়তায় অ্যাডিলেডভিত্তিক ড্যারেন লেহমান একাডেমিতে যুক্ত হন। ২০১৭ সালে ডেজার্ট টি২০ প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। তবে, গোড়ালীর আঘাতের কারণে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তবে, খুব দ্রুত সুস্থ হন ও ঐ বছরের মার্চে প্রথম একাদশে যুক্ত হন। তাসত্ত্বেও রান খরায় ভুগতে থাকেন।
মে, ২০১৮ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সময়োপযোগী নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। লিনস্টার লাইটনিংয়ের বিপক্ষে নর্থ ওয়েস্ট ওয়ারিয়র্সের সদস্যরূপে ১৪৮ রান তুলেন। এরফলে, আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত টেস্টে বয়েড র্যাঙ্কিন বাদে অন্য সকলের সাথে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে বল হাতে নিয়ে ৩/৬২ ও ১/৩১ এবং ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ৫৩ রান তুলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হয়।
২০১৯ সালে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম ও সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩০ ও ৩/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক লিচের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ১৪৩ রানে পরাজয়বরণ করেছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। পিতা নাইজেল থম্পসন আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছিলেন।
