জুন, ১৯৮৪ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মারমূখী ব্যাটিং করে থাকেন। ভারতের পক্ষে তিন স্তরের ক্রিকেটের সবকটিতে অংশ নিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী তিনি। ভারতের সাবেক অল-রাউন্ডার রজার বিনি’র সন্তান তিনি। বিদ্যালয় জীবনে পিতা তাঁর প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, আইএসিএতে কোচ ইমতিয়াজ আহমেদের ছত্রচ্ছায়ায় ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হায়দ্রাবাদ হিরোজ, আইসিএল ইন্ডিয়া একাদশ, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৩ সালে কর্ণাটকের সদস্যরূপে তামিলনাড়ুর বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তিন স্তরের সবকটিতেই দলটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অবশ্য, শুরুতে তাঁকে কর্ণাটক দলে জায়গা পেতে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতার কবলে পড়তে হয়েছিল। এরপর, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেন। ২০০৭ সালে আইসিএলে হায়দ্রাবাদ হিরোজ ও আইসিএল ইন্ডিয়া একাদশে যোগ দেন। এ প্রতিযোগিতায় অন্যতম অল-রাউন্ডার ছিলেন। এরপর, বিসিসিআই থেকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান। ২০০৯ সালে পুণরায় কর্ণাটক দলে ফিরে আসেন।
কর্ণাটক দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুইবার রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০১৭ সালের কর্ণাটকের প্রিমিয়ার টি২০ ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় বেলাগাভী প্যান্থার্সের প্রথম শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে নাগাল্যান্ডে চলে যান। এ মৌসুমে ৪২.১৮ গড়ে ৪৬৪ রান ও ২৭.৭৬ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কেন্ট প্রিমিয়ার লীগে বেকেনহাম দলে খেলেন। ১১.৩৭ গড়ে ২৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেট শিকারীদের তালিকায় অবস্থান করেন। ২০১১-১২ মৌসুমে বিসিসিআই কর্তৃক লালা অমরনাথ বেস্ট অল রাউন্ডার পুরস্কার পান।
লিকলিকে গড়নের অধিকারী স্টুয়ার্ট বিনি বলে তেমন পেস আনয়ণ করতে পারেন না। তবে, প্রায়শঃই হতাশাগ্রস্ত ব্যাটসম্যানদেরকে নিখুঁত বোলিংয়ে কুপোকাত করতে সক্ষমতা দেখাতে পারেন। মূখ্যতঃ ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলাগুলোয় উইকেট লাভে তৎপরতা দেখান। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালসের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। ২০১১ সালে রাজস্থান রয়্যালসের সদস্যরূপে শেষদিকের ওভারগুলোয় দূর্দান্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৩ সালে রয়্যালসের তারকা অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পান এবং পরের মৌসুমেও দলটিতে খেলেন। ২০১৬ সালের আসরে দলের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হলে নিজ শহরের বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের পক্ষে ₹২ কোটি ভারতীয় রূপীর বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০১৩-১৪ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় কর্ণাটকের সফলতায় বিরাট ভূমিকা রাখেন ও একই মৌসুমে মনোমুগ্ধকর শতক হাঁকিয়ে দলকে ইরানী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ৪৩.২২ গড়ে ৪৪৩ রান ও ৩২.৬৪ গড়ে ১৪ উইকেট নিয়ে কর্ণাটকের রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখেন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্যে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঐ বছরের শেষদিকে তাঁর জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সময়কালে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ১৪টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ভারত দলের সদস্যরূপে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, খেলায় একটিমাত্র ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর কয়েক মাস পর ২০১৪ সালের গ্রীষ্মে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বে ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ভারত দলে ছিলেন। ৯ জুলাই, ২০১৪ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১০ ওভার বোলিং করলেও উইকেট শূন্য ছিলেন। এ ইনিংসে সুবিধে করতে না পারলেও চূড়ান্ত দিনে সাময়িক ধ্বস রোধে এগিয়ে আসেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রান তুলে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। দলের নিশ্চিত পরাজয় রোধ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের উভয় ইনিংসেই বেশ আগেভাগে বিদেয় নেন। তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্ট থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। ওভালের পঞ্চম টেস্টে আবারও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। চূড়ান্ত ইনিংসে ৯৪ রান ভারত দল গুটিয়ে গেলেও তিনি ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
তাসত্ত্বেও, ভারতের ওডিআই দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে রয়ে যান। তবে, খেলায় অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। এরপর, ২০১৪ সালের শেষদিকে বাংলাদেশ সফরের জন্যে মনোনীত হন। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ৬/৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে জয় এনে দেন। এ সাফল্যটি যে-কোন ভারতীয় বোলারের ওডিআইয়ে সেরা সাফল্যের মর্যাদা এনে দেয়। খেলায় ভারত দল ৪৭ রানে জয় পায় ও তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। ঐ সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে ভারত দলে রাখা হয়। একই বছরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে আম্বতি রায়ডু’র সাথে ওডিআইয়ে ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। টেস্ট সিরিজে বল হাতে ছোটখাটো ভূমিকা রাখলেও ভারত দলের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকসের মুখোমুখি হন। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়। ঐ বছরের শেষদিকে ১৪ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নিজ শহরের মাঠে ঐ টেস্টটি শেষ চারদিন বৃষ্টিবিঘ্নিত হয়ে পড়ে। তিনি মাত্র তিন ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ইরফান পাঠানের পর ভারত দলে মিডিয়াম-পেস বোলিং অল-রাউন্ডারের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হতে থাকে। প্রায় এক দশক ঘরোয়া আসরে সাড়া জাগানোর পর জানুয়ারি, ২০১৪ সালে জাতীয় দলে যুক্ত হয়ে এ অভাব দূর করতে প্রয়াস চালান। তবে, অনেকের ন্যায় তিনিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের ঘরোয়া ক্রিকেটের সফলতা তুলে ধরতে পারেননি। কিন্তু, ২০১৩ সালের আইপিএলে নিজের সেরা দক্ষতা প্রদর্শনে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছেন। তন্মধ্যে, শেষ দলটির সদস্যরূপে আইপিএলের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে নিজস্ব দশম আইপিএল আসরে উদ্বোধনী আসরের শিরোপাধারী রাজস্থান রয়্যালসের সাথে চুক্তিতে উপনীত হন।
নিজেকে প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে খাঁটিমানের ব্যাটসম্যান কিংবা বোলার হিসেবে কোনটিতেই তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে, এ অবস্থানে তাঁকে হার্দিক পাণ্ড্য, বিজয় শঙ্কর প্রমূখদের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় ও এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। তাসত্ত্বেও, ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরে নিজেকে অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু, ২০১৮ সালে আঘাতের পাশাপাশি দূর্বল ক্রীড়াশৈলীর কারণে কর্ণাটকের দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকে উপেক্ষিত হন। এরফল, ১৬ বছরের সম্পর্ক ত্যাগ করে ২০১৯-২০ মৌসুমে নাগাল্যান্ডে চলে যান।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। মৈয়ন্তী ল্যাঙ্গার নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
