| |

স্টিভ স্মিথ

২ জুন, ১৯৮৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পিটার স্মিথ ও জিলিয়ান স্মিথ দম্পতির সন্তান। ক্রিস্টি স্মিথ নাম্নী জ্যেষ্ঠা ভগ্নী রয়েছে। ২০০৮ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেন।

কল্পলোকের ন্যায় ক্রিকেট বিশ্বে প্রধান ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর উত্থান ঘটে। বর্তমান সময়ে সকল স্তরের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা লেগ-স্পিনার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। জাতীয় দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। কিন্তু, তিনি নিজেকে এ সকল বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে আনেন ও বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানে রূপান্তরিত করেন।

সন্দেহাতীতভাবে ডন ব্র্যাডম্যানের পর সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন ও নিশ্চিতরূপে সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যান্টিগুয়া হকসবিলস, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, কোচি তুস্কার্স কেরালা, পুনে ওয়ারিয়র্স, রাজস্থান রয়্যালস, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সাদারল্যান্ড, সিডনি সিক্সার্স, সিডনি সাউথ ইস্ট ও টরন্টো ন্যাশনালসের পক্ষে খেলেছেন।

২৫ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের প্রবেশ করেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটের সকল স্তরে লেগ-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক হলেও অস্ট্রেলীয় দলে তাঁকে আসা-যাবার পালায় থাকতে হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১০ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৩ জুলাই, ২০১০ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। টিম পেইনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১ ও ১২ রান সংগ্রহ করলেও পরবর্তীকালে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের সাথে জড়ান। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল ১৫০ রানে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে তাঁর দল এগিয়ে যায়।

২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ২৮১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩৩ ও ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। অজি দলকে নেতৃত্ব দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অ্যাডাম ভোজেসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫২ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ট্রান্সমান প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়কোচিত ১৩৮ ও ৫৩* রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জো বার্নসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর শতকের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ও ৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৪৪১ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২২ সালে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ জুলাই, ২০২২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৪৫* ও ০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, প্রভাত জয়সুরিয়া’র মারাত্মক বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ৩৯ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৮৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮২ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। উসমান খাজা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৮ মার্চ, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ১৯৭ বল মোকাবেলায় ১৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে এটি তাঁর চৌত্রিশতম ও ভারতের বিপক্ষে একাদশ শতক ছিল। খেলায় তিনি ১৪০ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এ পর্যায়ে ৫৬.৫৩ গড়ে ৯৯৪৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৪ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। চতুর্থ অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২৫১ বল মোকাবেলায় তাঁর এ শতকটি ৩৫তম ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ছিল। এ পর্যায়ে তিনি ১০১৪০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, উসমান খাজা’র অসাধারণ দ্বি-শতরানের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৪২ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৫৪ বল মোকাবেলায় ১৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ শতকটি তাঁর ৩৬তম ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ছিল। এ পর্যায়ে তিনি ৫৬.৭৫ গড়ে ১০২৭১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ২৭২ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২৫ সালে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দিবা-রাত্রির ঐ টেস্টে ৪৮ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। তবে, মিচেল স্টার্কের অনবদ্য বোলিংয়ে সফরকারীরা ১৭৬ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ১৭ ও ২ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৯ ও ২৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জোশ টংয়ের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

জুন, ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ১নং ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। একই বছর আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি লাভ করেন। ঐ বছরই উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে আইসিসি’র দশকের সেরা ক্রিকেটার পুরস্কারের জন্যে মনোনীত হন। মাকড়শা ভীতি রয়েছে। ডানি উইলিস তাঁর বাগদত্তা ও পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করেন।

Similar Posts

  • |

    সিরিল ক্রিস্টিয়ানি

    ২৮ অক্টোবর, ১৯১৩ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। গায়ানা তথা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম…

  • | |

    ইয়ান মেকিফ

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেনটোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মোরাডিয়ালক-চেলসী হাইয়ে ভর্তি হন। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ক্রিকেট ও ফুটবলে বিদ্যালয় দলে অংশ নিতেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ডনের সাথে মেনটোন সিসি’র সদস্যরূপে ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে…

  • | | |

    আর্থার জিলিগান

    ২৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে লন্ডনের ডেনমার্ক হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন। পর্যাপ্ত পেস ও দম নিয়ে ফাস্ট…

  • |

    সিএস নায়ড়ু

    ১৮ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগীধর্মী বোলার ছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে লেগ-স্পিনার হিসেবে তারকা খ্যাতি লাভ করেন। বিখ্যাত ক্রিকেটার সিকে নায়ড়ু’র বর্ণাঢ্যময় খ্যাতির পিছনে থেকে নিজেকে স্ব-মহিমায়…

  • |

    চার্লস রাইট

    ২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হেয়ারউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। হেয়ারউডে জন্মগ্রহণ করলেও শিশুকালে পিতা-মাতার সাথে ওলেটন এলাকায় চলে যান। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন করেন। এখানেই তাঁর মাঝে ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক – উভয় বিভাগেই প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১…

  • |

    শুভাগত হোম

    ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বরিশাল…