৮ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে বার্বাডোসের রবার্ট টেনান্ট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করলেও ছোটবেলা থেকেই গায়ানায় বসবাস করতে থাকেন। সেখানে ক্রিকেট খেলা শেখেন ও ক্রিকেট জীবনের অধিকাংশ সময় খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস ও ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ক্রিকেট শুরুর পূর্বে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯২৩ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন। এ সফরে ৭৫ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, সমারসেটের বিপক্ষে ৬/৬৬ পান। ১৯২৬ সালে বোর্দায় সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে মনোজ্ঞ শতক হাঁকান। এক পর্যায়ে অবশ্য মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।
১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ও প্রথম দুই টেস্ট সিরিজ খেলেছেন। ১৯২৮ সালে আর. কে. নুনেসের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডের মাটিতে দুইটি ও ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে অপর দুইটি টেস্টে অংশ নেন।
প্রায় ৪০ বছর বয়সে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট মর্যাদা লাভের ফলে খেলার সুযোগ পান। তবে, ততোদিনে নিজের স্বর্ণালী সময় ফেলে এসেছিলেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রান তুললেও সফরকারীরা ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। টেস্টের বাইরে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৮/৮১ পান। কেন্টের বিপক্ষে এক ঘণ্টায় শতক হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। জর্জটাউনের বোর্দায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ক্লিফোর্ড রোচের দ্বি-শতক ও জর্জ হ্যাডলি’র জোড়া শতকের পাশাপাশি ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২২ রান সংগ্রহসহ বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৮৯ রানে জয় পেলে চার-টেস্টে নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা সমতায় ফেরে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে ২৫.১৪ গড়ে ১৭৬ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬টি উইকেট ও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
পেশায় মেজিস্ট্রেট ছিলেন ও পরবর্তীতে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে এমসিসি’র সম্মানসূচক সদস্যরূপে মনোনীত হয়েছিলেন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে ৭৩ বছর ৯৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
