| |

সিড পেগলার

২৮ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অসাধারণ স্পিন বোলার হিসেবে তিনি সুনাম কুড়িয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দৃষ্টিনন্দন স্পিন বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। নিজ দেশের তুলনায় ইংল্যান্ডেই অধিক পরিচিতি পেয়েছিলেন। প্রায় ২৫ বছর নিয়াসাল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯১০ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৩৩.৪৪ গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ক্লড ফ্লোকেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১* ও ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪০ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯১২ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে খুবই স্বল্প কয়েকজন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১৮৯ উইকেট পেয়েছেন।

২৭ মে, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এসই গ্রিগরিকে (৩৭) বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৪০। এ র্পায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৮৮ রানে পরাজয়বরণ করে। এ পর্যায়ে ছয় টেস্ট থেকে ২৯ উইকেট পেয়েছিলেন।

এরপর, ১০ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ডব্লিউ ব্রিয়ার্লিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/১০৫। খেলায় তিনি ৭/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়।

১৯২৪ সালে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, সিড পেগলারবিহীন দল কিভাবে ইংল্যান্ড সফরে আসে। এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিনে স্বাগতিক দলের সংগ্রহ ৩৯৮/৭ তুলে তৎকালীন প্রথম দিনে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে। সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও এবং পায়ের গোড়ালীর আঘাত নিয়ে তিনি পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। প্রায় ১২ বছর পর ঐ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ঘোষিত দলে না থাকলেও একই জাহাজে চড়ে গ্রেট ব্রিটেনে অবস্থানকালে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়েছিল।

১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় কেবলমাত্র সীমিত পর্যায়ে সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯১১ সালে লঞ্চেস্টনে তাসমানিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের সদস্যরূপে ১৪ মিনিটে ৫০ রান তুলেন। এরফলে অন্যতম দ্রুতলয়ে অর্ধ-শতরানের রেকর্ড গড়েন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থেকে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে দলটি মাত্র আটটি খেলায় জয়লাভ করে। তবে, নয় লক্ষ দর্শক তাঁদের খেলা দেখে ও ১৯৪৭ সালের দলের তুলনায় রেকর্ডসংখ্যক £১৭,৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করে যা £৬,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং বেশী ছিল।

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের প্লামস্টিড এলাকায় ৮৪ বছর ৪৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    এনামুল হক, ১৯৯২

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। দৃষ্টিনন্দন শট খেলে সকলের মন জয় করেন। ২০১০-এর দশকের শুরুরদিক থেকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিকেএসপিতে অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে জন্মগ্রহণ করায় বিদ্যালয়ের জনৈক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক তাঁকে ‘বিজয়’…

  • |

    ফ্রেড মর্লে

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৮৫০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবেই দলে সমধিক ভূমিকা পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জন্ম নিবন্ধন সনদে তিনি ‘ফ্রেডরিক মর্লে’ নামে পরিচিতি পান। ছোটখাটো ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা ও পৌনে এগারো স্টোন (৬৬ কেজি)…

  • |

    ক্রিস উকস

    ২ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি…

  • | |

    লিজলে নাজেল

    ৬ মার্চ, ১৯০৫ তারিখে ভিক্টোরিয়া বেন্ডিগো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম…

  • | |

    রয় ফ্রেডরিক্স

    ১১ নভেম্বর, ১৯৪২ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার ব্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বমানের সেরা পেসারদের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ওয়েস্ট…

  • |

    হারিস সোহেল

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ ধৈর্য্যশীলতা নিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। তেমন উইকেট না পেলেও দারুণ বোলিং করে থাকেন। বলকে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে স্থবিরতা আনতে সচেষ্ট হন।…