২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে আশাব্যঞ্জক খেলা উপহার দিলেও বড় আসরে ব্যর্থ হয়েছিলেন। হায়দ্রাবাদের দুর্ভাগা বোলারে পরিণত হন।
তাঁর উত্তরসূরীরা ব্যাপকভাবে সফলতার মুখ দেখলেও তাঁকে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে সর্বদাই বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, প্রায় ৮ বছর ভারতের টেস্ট দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। রবি শাস্ত্রী ও দিলীপ দোশী’র সাথে আশির দশকের সূচনালগ্নে ত্রয়ী স্পিনার হিসেবে দলে খেলেছেন। অন্য বোলারেরা বলকে তেমন বাঁকাতে সক্ষম না হলেও তিনি সর্বদাই অধিনায়কের নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি অসম্ভব দম নিয়ে বিশ্বস্ত বোলারে পরিণত হন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ভারতের খ্যাতনামা স্পিনার চতুষ্টয় – ইরাপল্লী প্রসন্ন, শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন, বিষেন সিং বেদী ও বিএস চন্দ্রশেখরের এ টেস্টে অংশ নেয়ার পর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। খেলায় তিনি ৪/৪৯ ও ৩/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাড় করান। এছাড়াও, একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। অভিষেক সিরিজেই দারুণ খেলা উপহার দেন। ৫ টেস্ট থেকে ২৪ উইকেট পেয়েছেন। তন্মধ্যে, তিনবার চার-উইকেট পান। তাৎক্ষণিক সফলতায় শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনকে উপেক্ষার শিকারে পরিণত হতে হয়।
১৯৮০-৮১ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৪১ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়া, বল হাতে নিয়ে ১/৯১ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবি শাস্ত্রী’র প্রাণান্তঃকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে ছন্দহীনতার কবলে পড়লে দল থেকে ছিঁটকে পড়েন। তবে, ১৯৮৩ সালে ভারত সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে পুণরায় জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। বোম্বেতে অনুষ্ঠিত টেস্টে ছন্দ ফিরে পান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১৫ উইকেট দখল করেন। সিডনিতে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে ১১৮ রান খরচায় আট উইকেট নিয়ে ভারত দলকে ফলো-অন এড়াতে ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। চমৎকার খেলেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৫/৭৬ নিয়ে ভারতের ইনিংস ও ১০৬ রানের বিজয়ে অংশ নেন। তবে, মনিন্দার সিং ও দিলীপ বেঙ্গসরকারের অনবদ্য ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৯৮৭ সালে মোতেরার গুজরাত স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলাকালীন ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে নিজস্ব চতুর্থ উইকেট ইকবাল কাসিমকে বিদেয় করে এ সাফল্য পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ১৬ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এছাড়াও, সাতটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে নিজ নামের পার্শ্বে আট উইকেট লেখান।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর সফলতম অথচ বিতর্কিত ক্রিকেট প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। এ সময়ে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অধিনায়কত্ব থেকে প্রত্যাহার করে বেশ আলোচিত হন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে বিসিসিআইয়ের সহঃসভাপতি হন। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আইপিএল বহির্ভূত সকল ধরনের কর্মকাণ্ডে বিসিসিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের দায়িত্বভার অর্পণ করে।
১৯৮০ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। এএস যাদব নামীয় সন্তান রয়েছে।
