|

শাহবাজ নাদিম

১২ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে বিহারের বোকারো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই তাঁর মাঝে অফুরন্ত প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯, বিহারের অনূর্ধ্ব-১৪ দলসহ নিজ রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কয়েকবার ঝাড়খণ্ড দলের নেতৃত্বের সুযোগ পান। ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের খেলায় সিকিমের বিপক্ষে নয়-উইকেট নিয়ে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। এছাড়াও, ক্ষীপগ্রতিতে ফিল্ডিংকর্মে সুনাম কুড়িয়েছেন।

২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বিহার ও পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ৪ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত ঝাড়খণ্ড বনাম কেরালার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

নিজ রাজ্য দলের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পেয়েছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে একদিনের খেলায়ও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। এছাড়াও, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রতিযোগিতায় একটি খেলায় অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরে অন্যতম নিচেরসারির স্পিনার ছিলেন। ২০১১ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের চতুর্থ আসরে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দিল্লি ডেভিলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন ও ২০১৮ সাল পর্যন্ত দলটিতে খেলেন। এ পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরার প্রয়াস চালান ও নিয়মিতভাবে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে যথাক্রমে ৪, ৪ ও ৭ খেলায় অংশ নেন। বিস্ময়করভাবে ২০১৮ সালের নিলামেও তাঁকে দিল্লি দলে রাখা হয়। ছয় খেলায় অংশ নিয়ে ৩৭.০০ গড়ে উইকেট পান। ওভার প্রতি ৭.০০ রান খরচ করেছিলেন।

ঝাড়খণ্ডের সদস্যরূপে রাজস্থানের বিপক্ষে ৮/১০ লাভ করেন। ২০১৯ সালের আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাথে যুক্ত হন। শিখর ধবনের পরিবর্তে বিজয় শঙ্কর, শাহবাজ নাদিম ও অভিষেক শর্মাকে নিয়ে আসা হয়।

লিস্ট-এ ক্রিকেটে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

২০১৫-১৫ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে বল হাতে দূর্দমনীয় ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ৫১ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। এরফলে, রঞ্জী ট্রফির ইতিহাসে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেন। পরের মৌসুমেও একই ধারায় বহমান ছিলেন। ৫৬ উইকেট দখল করে সর্বাধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব গড়েন ও রঞ্জী ট্রফিতে দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান।

কঠোর পরিশ্রমী বোলার হিসেবে ধারাবাহিকতা রক্ষার কারণে পরিচিতি লাভ করেন। অতঃপর, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারতের টি২০আই দলে তাঁকে রাখা হয়। তবে, প্রথম একাদশে তাঁকে খেলানো হয়নি।

২০১৯ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। কুলদীপ যাদব আঘাতের কবলে পড়লে ২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/২২ ও ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রোহিত শর্মা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের বদৌলতে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলেন। ২/১৬৭ ও ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ২২৭ রানে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট