৭ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রাজিব’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ মার্চ, ২০০৪ তারিখে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ‘এ’ বনাম জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত প্রতিভা অন্বেষণ শিবিরে চিহ্নিত হন ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের জন্যে প্রেরণ করা হয়। তবে, অনেকেই ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সন্দিহান ছিলেন। মাশরাফি বিন মর্তুজা’র যোগ্য সহচর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু, ধারাবাহিকতা রক্ষার অভাবে এ সম্ভাবনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ফাস্ট বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। পেস সহকারে বোলিং কর্মে অগ্রসর হবার যাবতীয় গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। দীর্ঘদেহ নিয়ে ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়ে শরীরে অযথা চাপ সৃষ্টি না করে কিছুটা বুক ফুলিয়ে বোলিং ভঙ্গীমায় এগিয়ে আসতেন। উইকেটের উভয়দিক দিয়েই বোলিং করতে পারতেন। এছাড়াও, সহজাত আগ্রাসী বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে, ধারাবাহিকতার অভাবে তাঁকে সর্বদাই দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতে হয়েছিল।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের পক্ষে $৩০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০০৫ থেকে ২০১৫ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট, ৫১টি ওডিআই ও ছয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৬ মে, ২০০৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মুশফিকুর রহিমের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, মাত্র ১২ ওভারে ১০১ রানের ব্যয়বহুল বোলিং করেন। কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ইনিংস ও ২৬১ রানের ব্যবধানে স্বাগতিক দল জয় তুলে নেয়।
দ্বিতীয় সফরে অবশ্য তুলনামূলকভাবে অধিক সফল হন। লর্ডসে প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে অনার্স বোর্ডে স্বীয় নামকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০১০ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরে এ সাফল্য পান। লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/৯৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। অ্যালাস্টেয়ার কুক, জোনাথন ট্রট, ইয়ন মর্গ্যান, টিম ব্রেসনান ও জেমস অ্যান্ডারসন তাঁর শিকারে পরিণত হন। তাসত্ত্বেও, বাংলাদেশ দল পঞ্চম দিনে আট উইকেটে পরাজয়বরণ করে।
জুলাই, ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে গমন করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। হারারেতে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক হ্যাট্রিক করার গৌরব গাঁথা রচনা করেছিলেন। মুফাম্বিসি, চিগুম্বুরা ও উতসেয়া তাঁর শিকারে পরিণত হন। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/২৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, দলে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে না পারার খেসারত গুণতে হয় তাঁকে। বাংলাদেশ দলে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করতে পারেননি।
এছাড়াও, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও একবার নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। শুরুতে ব্যাপক রান খরচ করলেও পরবর্তীতে হোয়াইট ও জনসনকে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করেন। এরপর, হাসিকে বিদেয় করে চার বল থেকে তিন উইকেট আদায় করে নেন। একবার, ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে তাঁর বল থেকে হুক শট খেলতে ব্যর্থ হলে রিকি পন্টিংয়ের হেলমেটে আঘাত হানে। ২০১০ সালের মিরপুর টেস্টে রাহুল দ্রাবিড় তাঁর বলে আঘাত পেয়ে রিটায়ার হার্ট হন। বাউন্সারে তিনি চোয়ালে আঘাত পান।
২০১২ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে খেলার জন্যে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালের পর ওডিআইয়ে প্রথম অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক খরুচে বোলারে পরিণত হন। ৬২.০০ গড় নিয়ে চার উইকেট দখল করেন। এপ্রিল, ২০১২ সালে বিসিবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে আর কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনেনি।
২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৬ মে, ২০০৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। কেবলমাত্র সামি আসলামের ক্যাচ তালুবন্দী করতে পেরেছিলেন। ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আঘাতের কারণে কোন ইনিংসেই ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে পারেননি। পাকিস্তান দল ৩২৮ রানে জয়লাভ করলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লীগের খেলায় ঢাকা বিভাগের দলীয় সঙ্গী আরাফাত সানি জুনিয়রকে মারপিট করার অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হন। খুলনার বিপক্ষে ঐ খেলা থেকে তাঁকে মাঠ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। বল চাকচিক্য করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ২০১৫ সালে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হন ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলেন। হাবিবুল বাশার সতীর্থ খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী টেস্ট একাদশ গঠন করেন। তন্মধ্যে, তাঁকেও এ তালিকায় ঠাঁই দিয়েছেন।
