|

শাদমান ইসলাম

১৮ মে, ১৯৯৫ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধন করেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশের অনেক পরিবারের ন্যায় পারিবারিক খাবার গ্রহণকালে তিনিও ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতেন। কেননা, পিতা শহীদুল ইসলাম বিসিবি’র বয়সভিত্তিক দলে অনেকগুলো বছর জড়িত ছিলেন। নভেম্বর, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের মাধ্যমে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়।

‘অনিক’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল ও ঢাকা মেট্রোপলিস প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রংপুর র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় ব্যাপক রান তুলেছেন। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের তরুণ ও প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাপক রান সংগ্রহ করে সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হন। ১২ এপ্রিল, ২০১৪ তারিখে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত খুলনা বিভাগ বনাম ঢাকা মেট্রোপলিসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

শৈশবকাল থেকেই ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিলেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালেই বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ পান। এরপর, বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত সদস্য হন। ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপে আবির্ভূত হন। একটি শতক ও দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১০১.৫০ গড়ে ৪০৬ রান তুলে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় নিজেকে যুক্ত করেন। তবে, নিজেকে জাতীয় দলে যুক্ত হতে কিছুটা সময় নেন। অথচ, ইমাম-উল-হক, এইডেন মার্করাম, নিকোলাস পুরাণ, বেন ডাকেট, সাদিরা সামারাবিক্রমালিটন দাস পূর্বেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

এক পর্যায়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের নজরে পড়েন ও ২০১৭ সালের বিপিএলের আসর দলের খেলোয়াড় হিসেবে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বামহাতে নিশ্ছিদ্র ভঙ্গীমায় ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমের বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়ার মাধ্যমে রানে ফুলঝুড়ি ছোটাতে তৎপর হন। ৪৫-এর অধিক গড়ে রান সংগ্রহের পর অবশেষে ২৩ বছর বয়সে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে পড়েন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লীগে ৬৪.৮০ গড়ে ৬৪৮ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার পর টেস্ট দলে খেলার আমন্ত্রণ পান। নভেম্বর, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১৯৯ বল মোকাবেলায় ৭৬ রান তুলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জনে সমর্থ হন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

এর পরপরই নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দলে স্থান নিশ্চিত করেন। কয়েক মাস পর নিউজিল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। বিদেশের মাটিতেও বেশ ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অগ্রসর হলেও বড় ধরনের রান সংগ্রহ করতে পারেননি। দৃঢ় মনোভাব সহযোগে ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনে তামিম ইকবালের সাথে উদ্বোধনে নামতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

২০২১ সালে মমিনুল হকের নেতৃত্বে এক-টেস্টের সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৭ জুলাই, ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হারারে টেস্টে অপূর্ব খেলেন। স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তকে (১১৭*) সাথে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিরবচ্ছিন্ন ১৯৫ রান যুক্ত করেন। নিজে করেন অপরাজিত ১১৫ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় বাংলাদেশ দল ২২০ রানে জয়লাভ করে।

২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সায়মন হারমারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। কেশব মহারাজের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২২০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।

২০২৪ সালে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের অন্যতম সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানে বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৯৩ ও ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গলে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৭৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে ৩৫ ও ৭৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • |

    জর্জ হার্ন, ১৮৫৬

    ৭ জুলাই, ১৮৫৬ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, রাউন্ড আর্ম ভঙ্গীমায় বামহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জিজি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সুপরিচিত হার্ন পরিবারের অন্যতম সদস্য তিনি। ফ্রাঙ্ক ও অ্যালেক ভ্রাতৃদ্বয় রয়েছে এবং তিনি…

  • | | | |

    গ্রেগ চ্যাপেল

    ৭ আগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আনলে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় নান্দনিক ও দর্শনীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন। প্রতিপক্ষীয় খেলোয়াড়দের কাছে দুর্বোধ্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতাসুলভ ও…

  • | |

    ডগলাস জার্ডিন

    ২৩ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মালাবার হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ও নিজের সময়কালে শীর্ষস্থানীয় শৌখিন ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বিতর্কের মূল হোতা হিসেবে ক্রিকেটের খলনায়ক হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। শারীরিক…

  • |

    অসি ডসন

    ১ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ তারিখে নাটালের রসবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দৌঁড়ুতে বেশ পটু ছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    বেঙ্কটাপ্পা মুদ্দিয়া

    ৮ জুন, ১৯২৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ, মহীশূর…

  • | |

    হেনরি উড

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৬ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, সারে…