১০ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তিন স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবকটিতেই অংশ নিয়েছেন।
‘মিলি’ কিংবা ‘দ্য রাস’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। হ্যামিল্টন বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, এসেক্স, লিচেস্টারশায়ার, সাসেক্স ও মিডলসেক্স এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, ডেকান চার্জার্স, গাজী ট্যাঙ্ক ক্রিকেটার্স ও সিলেট রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন। হক কাপে হ্যামিল্টন ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০০৬ সালেও দলটির সদস্য ছিলেন। বেন হাটনের পরিবর্তে কয়েকটি খেলায় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১ জুন, ২০০৭ তারিখ থেকে দুই মাসের চুক্তিতে ডারহামের পক্ষে খেলেন।
১৯৯৯ থেকে ২০১১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্ট, ১৮৮টি ওডিআই ও ৩১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শচীন তেন্ডুলকরকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ঐ খেলায় তিনি তিন উইকেট লাভ করেছিলেন।
২০০২ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ জুন, ২০০২ তারিখে গ্রেনেডার সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। টেস্ট অভিষেকে শতক হাঁকিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৭ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ব্রায়ান লারা’র উইকেটসহ ২/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রিস গেইলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
এরপর, ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ৬/২৫ পান। এরফলে, ওডিআইয়ে যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় বোলারের সেরা কীর্তি স্থাপন করেন।
২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ঐ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ভারতের প্রথম ইনিংসে রাহুল দ্রাবিড়ের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ২/৮৮। খেলায় তিনি ৩/২৮ ও ০/১৬ লাভ করেন। এছাড়া, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে হরভজন সিংয়ের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্ক রিচার্ডসনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৩-০৪ মৌসুমে মোহালীতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্ট শতক হাঁকান। খুব শীঘ্রই অকল্যান্ডে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। ২২০ বল মোকাবেলা করে ১৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখ থেকে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭০ রান সংগ্রহ করেন। ঘটনাবহুল খেলার তৃতীয় দিন তিনি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৩৭ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্রিস মার্টিনের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পায়। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট জয় করে। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৪ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুন, ২০০৪ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে পৌঁছানোকালে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে ১০৮ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্রাহাম থর্পের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে চার উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ টেস্ট শেষে কিউই অল-রাউন্ডার ক্রিস কেয়ার্নস অবসর গ্রহণ করেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় দিন নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে কানের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণে আক্রান্ত হলে নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য হন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা খেলায় ২১৩ রানে পরাজয়বরণসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০৩* ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ১/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৫৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
