১৯ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে কো ডারহামের সান্ডারল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।
২০০৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে ডারহামের দ্বিতীয় একাদশ ও ডারহাম একাডেমির পক্ষে দূরন্ত খেলে নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ২০০৯ সালে লিস্ট-এ ও প্রথম-শ্রেণীর খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তবে, প্রথম একাদশে আসা-যাবার পালায় থাকতেন। মৌসুমের শেষদিকে নাকানি-চুবানির শিকার হন। প্রো-৪০ খেলায় এসেক্সের ব্যাটসম্যান জেমস ফস্টার তাঁর বল থেকে উপর্যুপরী পাঁচটি ছক্কা আদায় করে নেন। শেষ বলটি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। ওয়াইড করেন। নিশ্চিত পরাজয় থেকে এসেক্স দল জয় ছিনিয়ে নেয়।
২০১০ সালে শারীরিক সুস্থতা আনয়ণ এবং শেন ওয়ার্ন ও মুশতাক আহমেদের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে লেগ-স্পিনের শৈল্পিক সত্ত্বা শেখার প্রয়াসে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। দৃশ্যতঃ তাঁর এ শেখনী বেশ সহায়তা করেন। ২০১১ মৌসুমের শুরুতে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে খেলায় ৪/২৫ নিয়ে দলকে জয় এনে দেন। খুব শীঘ্রই তাঁকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।
২০১১ থেকে ২০১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, দুইটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। আগস্টে তরুণদের নিয়ে গড়া ওডিআই দলের সদস্য হিসেবে আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। একমাস পর সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আই দলে তাঁকে যুক্ত করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৪-০-১৫-১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ঐ বছরে ভারত গমন করেন। এ পর্যায়ে কেবলমাত্র একটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরে বেশ কিছু সফলতা আনয়ণের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বয়েড র্যাঙ্কিন ও গ্যারি ব্যালেন্সের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ১/৪৯ ও ৩/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে ঐ টেস্টে তাঁর দল ২৮১ রানে পরাজয়বরণ করে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সারে দলে বেশ কয়েক বছর খেলার পর পুণরায় ২০২০ সালে ডারহাম দলে যুক্ত হন। ২০১৭ সাল থেকে সারে দলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। ডারহাম একাডেমি থেকে খেলার সুযোগ পান। এরপর, ডারহাম দলের সদস্য ছিলেন। এ পর্যায়ে তিনবার তাঁর দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ ও একদিনের ট্রফি জয় করে।
