৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মাইকেল হাসি ও সাঈদ আনোয়ারকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী হোয়াইটস, করাচী ব্লুজ, পাকিস্তান টেলিভিশন ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাওয়ালপিন্ডি, খাইবার পাখতুনখোয়া, ফেডারেল এরিয়াজ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, করাচী জেব্রাস ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত করাচী হোয়াইট বনাম ওয়াপদা’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৭ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে স্বল্পকালীন চুক্তিতে ইয়র্কশায়ারে যোগ দেন।
২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২১ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুলাই, ২০২১ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ আলী, হারিস রউফ ও জাহিদ মাহমুদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ ৩৭ ও ৭৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অলি রবিনসনের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৪ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া করাচী টেস্টে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। অপরাজিত ১২৫ রান তুলে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি ৩২ রান তুলেছিলেন।
২০২৪ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৪১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে পঞ্চম উইকেটে ২৪০ রানের জুটি গড়েন। এছাড়াও, ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৮৪ রান সংগ্রহ করেন। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৬ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।
