| |

সঞ্জীব শর্মা

২৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, রেলওয়ে ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধ্বে ভারতের দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। কপিল দেবের সাথে বোলিং উদ্বোধনে অংশ নিতে কয়েকজন বোলারের অন্যতম ছিলেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও পেস ও সম্ভাব্যতার বিচারে ১৯৮৮ সালের শুরুতে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে শারজায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫/২৬ লাভ করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে এটিই ভারতের যে-কোন বোলারের সেরা সাফল্য ছিল। এরফলে, নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাঁর ঠাঁই হয়।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম টেস্টে দারুণ খেলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী হবার ফলে প্রথম ইনিংসে দ্রুত বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। ৩/৩৭ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে জয় পেয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল।

এরপর, ১৯৮৯ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের সুযোগ পান। তবে, কোন টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। সফরের শেষ পর্যায়ে জ্যামাইকার বিপক্ষে ৪/৬১ পেয়েছিলেন। ১৯৯০ সালের গ্রীষ্মে পরের টেস্টে অংশ নেন। ঐ বছর মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৬ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তাঁর বলে গ্রাহাম গুচ ৩৬ রানে থাকাকালে কিরণ মোরে গ্লাভস বন্দী করতে ব্যর্থ হলে ইংরেজ অধিনায়ক ৩৩৩ রান তুলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ১২৩ রান সংগ্রহ করেন। ঐ টেস্টে তিনি ১/১২২ ও ২/৭৫ পান। স্বাগতিক দল ২৪৭ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এ সফরেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সরব ছিলেন। দিল্লির পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরবর্তীতে, রেলওয়ে ও রাজস্থানের সদস্যরূপে অনেকগুলো উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে খেলে কয়েকটি শতরানের ইনিংস খেলেন। প্রায় ২০ বছরের খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। নভেম্বর, ২০০৪ সালে প্রতিযোগিতাধর্মী ক্রিকেট জগতকে বিদেয় জানান। ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ তারিখে দিল্লির কিশোর দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঐ তিন স্তরের রাজ্য দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন।

Similar Posts

  • | | |

    হেনরি টাবেরার

    ৭ অক্টোবর, ১৮৭০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিস্কাম্মাহোক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন ও ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ৫৩ বছর ধরে খোসা সম্প্রদায়ের পাদ্রী ক্যানন সি টাবেরারের সন্তান ছিলেন।…

  • | | |

    রড মার্শ

    ৪ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার আর্মাডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ‘আয়রন গ্লাভস’ কিংবা ‘বাক্কাস’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • |

    শাব্বির আহমেদ

    ২১ এপ্রিল, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। অন্যান্য পাকিস্তানী ফাস্ট বোলারের তুলনায় তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রাণহীন উইকেটেও সজীব বোলিং করতেন। স্ট্যাম্পের…

  • | |

    জ্যাক শার্প

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৮ তারিখে হিয়ারফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ক্ষীপ্রগতিতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | |

    ম্যালকম জার্ভিস

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে মাসভিঙ্গোর ফোর্ট ভিক্টোরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সেরা হৃদয়বান ও অবিসংবাদিত কর্মী। বামহাতি পেসার হিসেবে শূন্যে ভাসিয়ে অফের দিকে নিয়ে যেতে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। তবে,…

  • |

    হ্যাডলি হাওয়ার্থ

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে অকল্যান্ডের গ্রে লিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের সূচনালগ্নে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ধীরগতিসম্পন্ন বোলার ও নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, তাঁর বোলিং তেমন দৃষ্টিনন্দন ছিল না। সব মিলিয়ে মাত্র দুইবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ…