১৫ এপ্রিল, ১৯০৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘদেহের অধিকারী দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অপ্রত্যাশিতভাবে বাউন্স মারতেন। নেভিল কুইনকে সাথে নিয়ে ১৯২০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯৩০-এর দশকে ভীতিদায়ক বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স ও রোডেশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৫-২৬ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে কেপটাউনে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে খেলায় ৬১ রান খরচায় তেরো উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯২৯ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২৯ সালে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৯ জুন, ১৯২৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। নেভিল কুইন ও সিরিল ভিনসেন্টের আঘাতের কারণে খেলার সুযোগ পান। এরিক ডাল্টন ও কুইন্টিন ম্যাকমিলানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ৬/৯৯ লাভ করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। এগুলো প্রথম ইনিংসের শেষ ছয় উইকেট ছিল। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সিরিজের ১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে অনন্য রেকর্ড গড়েন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে দশম উইকেটে এইচ. জি. ওয়েন-স্মিথের (১২৯) সাথে ১০৩ রানের জুটি দাঁড় করান। এরফলে, টেস্টে দশম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন রেকর্ড হয়। তিনি ২৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অবশ্য, প্রথম ইনিংসে ২* রান করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৮ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যান। দলের অন্যতম প্রধান বোলারে পরিণত হন। চাতুর্য্যতাবিহীন বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বেশ সফলতার সন্ধান পান। এ সিরিজে তিনবার পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। সিডনি, মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেডে টেস্টে উপর্যুপরী এ সাফল্য পান। তন্মধ্যে, এমসিজিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে নেভিল কুইনকে সাথে নিয়ে প্রথম ইনিংসে তছনছ করে ছাড়েন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক দল রুখে দাঁড়ায় ও জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া এ সিরিজে ২৩ উইকেট দখল করেছেন।
এছাড়াও, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ২* রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তারপর, ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৯০ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দুই টেস্ট বাদে সবগুলোতেই বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। কখনোবা চমৎকার পেসসহ পর্যাপ্ত উচ্চতা থেকে বলকে নিচু করে ফেলা ও দেরীতে ইন-সুইং করানোয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। টেস্টে সব মিলিয়ে ৩২.৬৫ গড়ে ৪৮ উইকেট ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৩.২৯ গড়ে ২২৮ উইকেট দখল করেছেন। ১ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মোব্রে এলাকায় ৭৯ বছর ১০৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
