|

স্যাম কনস্টাস

২ অক্টোবর, ২০০৫ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সিডনি থান্ডার ও অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত নিউ সাউথ ওয়েলস বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

বয়সভিত্তিক দল, বিদ্যালয় ও গ্রেড ক্রিকেটে অগণিত শতক হাঁকিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, গ্রেড ক্রিকেটে প্রায় পাঁচ হাজার রানের সন্ধান পেয়েছেন। তবে, শীর্ষ স্তরের ক্রিকেটে স্মরণীয় গতিতে নিজের উত্থান ঘটিয়েছেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরুতে মাত্র চারটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, ঐ গ্রীষ্মে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া শতক হাঁকিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরফলে, রিকি পন্টিংয়ের পর শেফিল্ড শীল্ডে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এ সাফল্য পান। ফলশ্রুতিতে, স্টিভেন স্মিথের মাঝামাঝি পর্যায়ে ফিরে যাবার ফলে টেস্ট দলে যুক্ত হবার দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখেন।

শুরুতে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনজন ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞদের অন্যতম হিসেবে ছিলেন। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের জন্যে নাথান ম্যাকসুইনিকে তাঁদের প্রথম পছন্দের ব্যাটসম্যান হিসেবে রাখেন। তবে, পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পুণরায় তাঁকে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ পর্যায়ে বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের প্রথম তিন টেস্ট শেষ হয়ে যায়। এ সময়ে সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী একাদশের সদস্যরূপে ৯৭ বল থেকে ১০৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হবার ২০ দিন পর তাঁর জন্ম। ২০২৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। সাবেক অস্ট্রেলীয় অল-রাউন্ডার শেন ওয়াটসন তাঁর পরামর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৪ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে জসপ্রীত বুমরা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ২২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্কট বোল্যান্ডের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

পূর্ববর্তী গ্রীষ্মে চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাট কুনেমানের সাথে তাঁকে ১ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক ঘোষিত ২০২৫-২৬ মৌসুমকে ঘিরে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হয়।

২০২৫ সালের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিতে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, ১১ জুন, ২০২৫ তারিখ থেকে লর্ডসে শুরু হওয়া অপর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম একাদশে তাঁর ঠাঁই হয়নি।

এরপর, ২০২৫ সালে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অংশ নেন। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শামার যোসেফের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৯ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭৬ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

Similar Posts

  • | |

    কলিন স্নেডেন

    ৭ জানুয়ারি, ১৯১৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী তারকা ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মিডিয়াম-পেসের ন্যায় ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। প্রায়শঃই নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের…

  • | | |

    টম মুডি

    ২ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৯৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী টম মুডি ‘মুনশাইন’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। স্বল্প দূরত্ব দৌড়ে এসে সাধারণমানের মিডিয়াম পেস বোলিং করেন। বলে সহজাত সুইং আনয়ণ…

  • |

    নানা জোশী

    ২৭ অক্টোবর, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাট হাতে খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর…

  • |

    রজার হ্যারিস

    ২৭ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডের ওটাহুহু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। টেস্টের সাথে তুলনান্তে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অধিক সফল ছিলেন। ৩৮৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে…

  • | | | |

    গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথ

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে মহীশূরের ভদ্রবাটি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও মহীশূরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    সিড ও’লিন

    ৫ মে, ১৯২৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের অটশুর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। এছাড়াও, বামহাতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জন্মসনদে তাঁকে সিডনি ও’লিনস্কি নামে পরিচিতি ঘটানো হয়েছিল। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…