১৯ নভেম্বর, ১৯৬২ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার সেলিম জাফর অফের দিক থেকে দক্ষতা প্রদর্শনে সক্ষম ছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। অভিষেক খেলায় ৫/১১ পান। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম শেষে ১৯ গড়ে ৮০ উইকেট দখল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আমন্ত্রণের বিষয়টি কোন বিস্ময়ের কারণ ছিল না।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও ৩৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে করাচীতে একই দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৩৪ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলনায়ক ইমরান খানের অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি। ঐ সালের শেষদিকে বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে, অস্ট্রেলীয়দের কাছে বেশ নাকানি-চুবানির শিকার হন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে করাচীতে পাঁচ-উইকেট পান। এরফলে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হয়। এর পরপরই নিজস্ব সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের ওয়েলিংটন টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় ১৩৪ রান খরচায় আট উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, নিজস্ব একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩/৩৬ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০০৯ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
