| |

সালাহউদ্দীন

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বন্দর নগরী করাচীতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ধ্রুপদী ঢংয়ে ডানহাতে অপূর্ব ড্রাইভে খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও, ধীরলয়ের অফ-ব্রেক বোলিংয়ের মাধ্যমে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন তিনি। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই ১৮ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৩৬ ও ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ৬৪ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। ছয় বছরের মধ্যে এটি পাকিস্তানের প্রথম জয় ছিল।

১৯৬৭ সালে একবার ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে ঐ সফরে তাঁকে কোন টেস্ট খেলায় রাখা হয়নি।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৩০ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ী জীবনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। কিন্তু, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশাল সংখ্যায় রান পেয়েছেন। স্কটল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটেও সফলতার সাথে খেলেছেন। এক পর্যায়ে তিনি দেশান্তরী হন ও স্কটল্যান্ডে নিবাস গড়েন।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে খ্যাতি কুড়ান। ১৯৮০ সালের পর থেকে নয়বার ভিন্ন ভিন্ন দল নির্বাচক কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি, দুইবার প্রধান দল নির্বাচক হন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর ওয়াসিম বারি’র পরিবর্তে তাঁকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর অবশ্য আবারও প্রশাসনিক পরিবর্তন আসে। এছাড়াও, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় সফলতার সাথে খেলোয়াড়ী জীবন অতিক্রম করা করাচী দলের নির্বাচক হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

Similar Posts

  • |

    বিল হাওয়েল

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    রাহাত আলী

    ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে পাঞ্জাবের মুলতানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। কৌণিকভাবে ও ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিংয়ে সক্ষম। তবে, তিনি মুলতঃ সুইংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | | | |

    বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা

    ২৮ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেনারসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ভিজ্জি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ভারতের সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আজমীরের প্রিন্সেস কলেজ ও ইংল্যান্ডের হেইলিবারি…

  • | |

    লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন

    ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯০১ তারিখে ত্রিনিদাদের পেটিট ভ্যালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশীবহুল কিন্তু নমনীয়, গুটানো কিন্তু লম্বাটে বাহু নিয়ে পর্যাপ্ত পেস সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তাঁর ব্যাটিং অনেকাংশেই চোখের উপর নির্ভরশীল ছিল।…

  • |

    মার্কুইনো মিন্ডলে

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে…

  • | |

    স্টিভ এলোয়ার্দি

    ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে রোডেশিয়ার বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকালে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে ট্রান্সভাল স্কুলসের পক্ষে খেলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…