৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৬ তারিখে এসেক্সের লেটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মাইনর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে খ্যাতি কুড়ান। এ সময়ে তিনি রয়্যাল নেভিতে কর্মরত ছিলেন। লেটনে বোলিং অনুশীলনকালে সি.ই. গ্রীনের নজর কাড়েন। তাঁকে সার্ভিস থেকে নিয়ে আসেন ও এসেক্স দলে খেলান। এভাবেই তিনি ক্রিকেট বিশ্বে ‘সেইলর’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৮ থেকে ১৯১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৮৯৮ সালে এসেক্সের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ১৮৯৯ মৌসুমে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৬০৭ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২১ গড়ে ১৩৯ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। বেশ উচ্চতার অধিকারী ছিলেন ও বলকে পিচে বেশ বাঁকাতে পারতেন। সব মিলিয়ে এসেক্সের পক্ষে ৫১৪ উইকেট ও ২৩০৩ রান তুলেছিলেন।
১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই তিনি সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। উইলি কুয়েইফের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৪/৩০ লাভ করেন। ঐ খেলায় ১০২ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
পরের মাসে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে শুরু হওয়া ঐ টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭৯ ও ২/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২১.৮৩ গড়ে ১২ উইকেট নিয়ে টেস্ট বোলিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করেন। এছাড়াও, লেটনে এসেক্সের সদস্যরূপে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দলের বিজয়ে বিশাল অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংস ৪/৪২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৩২ লাভ করে সফরকারীদেরকে ৮১ রানে গুটিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘দৃশ্যতঃ তিনি অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে বল ফেলে ছয় থেকে আট ইঞ্চি বাঁক খাওয়াতেন।’
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ৩টি টেস্ট ও ৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে এসেক্সের রোচফোর্ড এলাকার হাসপাতালে ৮৮ বছর ৩১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
