| |

সাঈদ আনোয়ার

৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সময় নিয়ন্ত্রণ ও বল বাছাইয়ের মাধ্যমে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। আগ্রাসী ভূমিকার চেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকপ্লের মাধ্যমে বিদ্যুৎগতিতে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তেমন পায়ের কারুকাজ ব্যতিরেকেই অফ সাইডে ড্রাইভ মারতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের বলগুলোকে ছাড় দিতেন না। প্রায়শঃই চতুর্থ স্লিপ বা গালি অঞ্চলে অবস্থানকারী ফিল্ডারের দিকে নিয়মিতভাবে বলকে নিয়ে যেতেন। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। একদিনের আন্তর্জাতিকে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বাধিক ওডিআই শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের দাবীদার।

ক্রিকেট অনুরাগী পরিবারের সন্তান। পিতা ব্যবসায়ী হলেও ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জায়েদ নামীয় ভ্রাতা লাহোরের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেট দলে খেলেছেন। স্নাতক ডিগ্রী লাভের পর কম্পিউটার প্রকৌশলী হয়েছিলেন। এ সময়েই ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে থাকেন। শুরুতে লিস্ট-এ ক্রিকেট ও পরবর্তীতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, করাচী, লাহোর ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০টি শতক সহযোগে ৪৫.১৯ গড়ে রান পেয়েছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছেন ২২১ রান। এছাড়াও, ৯ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে তিনটি পেয়েছেন একই খেলা থেকে।

১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৫৫ টেস্ট ও ২৪৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে পার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে নিজ দেশে ডেসমন্ড হেইন্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মঈন খানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক পর্বটির শুরুটা মোটেই তাঁর জন্যে সুবিধের হয়নি। উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। রিচি রিচার্ডসনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা সাত উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

এক বছর পূর্বে পার্থে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে টেস্টের ন্যায় প্রায় একই ভূমিকা রাখেন। মাত্র ৩ রান তুলতে পেরেছিলেন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল খেলায় জয় পায়।

তাসত্ত্বেও, দর্শনীয় ক্রিকেটারে পরিণত হন ও ওডিআইয়ে দ্রুত সফলতা পান। দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকপ্লের কারণে সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ওডিআইয়ে উপর্যুপরী তিনটি শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে শারজায় চ্যাম্পিয়ন্স কাপে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ সফলতা পান।

১৯৯৪ সালে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ৯ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৯৪ ও ১৩৬ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অনিন্দ্য সুন্দর ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৩০১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৪ রানে জয় পায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে একমাত্র ইনিংসে ১৪৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ জাহিদের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। ঐ সিরিজে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২১ মে, ১৯৯৭ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ ইনিংস খেলেন। এদিন ওডিআইয়ে ১৯৪ রান তুলে তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, ভিভ রিচার্ডসের ১৩ বছরের স্থায়ী রেকর্ড ভেঙ্গে নিজের করে নেন। ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ঐ ইনিংসটি ২২টি চার ও ৫টি ছক্কার মারে সাজানো ছিল। ৭ম ওভারে বেঙ্কটেশ প্রসাদের বলে মিড-উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান। ১৯তম ওভার চলাকালীন প্রচণ্ড গরমে দৌঁড়ুতে অক্ষম হয়ে পড়ায় রানার হিসেবে শহীদ আফ্রিদি তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিলেন। বাউন্ডারি থেকে ১১৮ রান তোলায় অবশ্য শহীদ আফ্রিদিকে তেমন দৌঁড়ুতে হয়নি। অনিল কুম্বলে’র এক ওভার থেকে ২৬ রান আদায় করে নেন ও উপর্যুপরী তিনটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।

খেলা শেষ হবার তিন ওভার পূর্বে শচীন তেন্ডুলকরের সাধারণমানের বলে ব্যাটের শীর্ষ স্পর্শ করে ফাইন লেগে কটে বিদেয় নেন। এ পর্যায়ে তাঁরই প্রথম দ্বি-শতক হাঁকানো সূবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করেছিল। পরবর্তীকালে ২০১০ সালে শচীন তেন্ডুলকর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ওডিআইয়ে দ্বি-শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ৩২৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ভারত দল ৩৫ রানে পরাজিত হয়। শচীন তেন্ডুলকর পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন যে, সাঈদ আনোয়ারের ইনিংসটি তাঁর দেখা সেরা ইনিংস ছিল।

১৯৯৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। অধিনায়ক হিসেবে সাধারণমানের সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। খুবই স্বল্প সময়ের জন্যে পাকিস্তান দলকে সাতটি টেস্ট ও এগারোটি একদিনের আন্তর্জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিল্ডার হিসেবে দলে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। এছাড়াও, ধীরলয়ে পায়ের সঞ্চালনের কারণে বেশ কয়েকবার তাঁকে বেশ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। স্বর্ণালী সময়েও আঘাতে কাবু হয়েছিলেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে রশীদ লতিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৬ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থ দিন ৩১ রানে থাকাকালে মিড-উইকেট অঞ্চলে দণ্ডায়মান অ্যান্ড্রু হাডসন ফেলে দিলে জীবন ফিরে পান। খেলায় তিনি ১৮ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যালান ডোনাল্ডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। মার্ক বাউচারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৫৯ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম খেলায় অংশ নিতে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ঐ টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪৬ রানে জয় পায়। ঐ খেলায় তিনি জবাগল শ্রীনাথের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০১-০২ সালে নিজ দেশে নাইমুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১০১ রানের মনোরম শতক হাঁকান। তবে, দানিশ কানেরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৬৪ রানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআইয়ে তাঁর গড় ৪০-এর নীচে ছিল। কিন্তু, খেলাকে তিনি বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত করে ফেলতেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ৮৫-এর অধিক স্ট্রাইক রেটে নিজস্ব প্রথম ১০০০ রান তুলেন। তাঁর নিকটবর্তী অবস্থানে থাকা ভারতীয় তারকা ব্যাটসম্যান কৃষ শ্রীকান্তের স্ট্রাইক রেট ছিল ৭১.৭৪। পরবর্তীকালে সনথ জয়সুরিয়া ও শচীন তেন্ডুলকর পাওয়ারপ্লের সুবাদে বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে তাঁদেরকে টপকে যান। ভারতের বিপক্ষেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্মরণাতীত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩.৫৫ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭.৩০ গড়ে রান পেলেও ভারতের বিপক্ষে ৪৩.৫২ গড়ে ও ৯০-এর অধিক স্ট্রাইক রেটে ২০০২ রান তুলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। লুবনা আনোয়ার নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার কবলে পড়ে আগস্ট, ২০০১ সালে স্বীয় কন্যা বিসমাহ আনোয়ারের মৃত্যুর পর ক্রিকেট থেকে কিছু সময় দূরে সড়ে যান। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। দলে প্রত্যাবর্তনের পর পূর্বেকার সাফল্যের ছায়া হিসেবেই তাঁকে দেখা যায়। তাসত্ত্বেও, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ২০০৩ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। ফলশ্রুতিতে, নিজ দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পূর্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • | | | |

    দিলীপ মেন্ডিস

    ২৫ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী হিসেবে যে-কোন স্তরের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    নামি ডিন

    ২১ জুলাই, ১৮৯৫ তারিখে জুলুল্যান্ডের এশোই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ও কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পয়েন্ট, সিলি-পয়েন্ট, মিড-অন ও শর্ট-লেগের ন্যায় কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন। আকর্ষণীয় ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। উইকেটে…

  • |

    মোহাম্মদ নাঈম

    ২২ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা মেট্রোপলিটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বেক্সিমকো ঢাকা, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, রংপুর র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন।…

  • | | |

    উইলি ওয়াটসন, ১৯২০

    ৭ মার্চ, ১৯২০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের বোল্টন-অন-ডিয়ার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বিল’ কিংবা ‘বিলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ার দলের…

  • |

    অমর সিং

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আলফ্রেড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৯-৪০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    জ্যাক প্লিমসল

    ১১ অক্টোবর, ১৯১৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কল্ক বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…