১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে ম্যারোন্ডেরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ আগ্রাসী মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হারারের ৭২ কিলোমিটার পূর্বাঞ্চলীয় ম্যারোন্ডেরায় জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে গ্যারি ব্যালেন্স, টম কারেন ও স্যাম কারেনের ন্যায় ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ইতালীয় রাগবি তারকা সেবাস্টিয়ান নেগরি ও অলিম্পিকে নৌকাচালনায় অংশগ্রহণকারী পিটার পার্সেল-জিলপিনের ন্যায় খেলোয়াড়ের সূতিকাগার হিসেবে বিবেচিত পিটারহাউজ বয়েজের সাথে নিজেকে জড়িত করেন। পিটারহাউজ বয়েজ স্কুলে অধ্যয়নকালীন স্কোয়াশ খেলতেই অধিক পছন্দ করতেন। কিন্তু, দলগত ক্রীড়া হিসেবে পারস্পরিক সমঝোতা ও আস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ক্রিকেটের প্রেমে মজে যান। পরবর্তীতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন বুনতে থাকেন। বহুমূখী ক্রীড়ায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ক্রিকেটের পাশাপাশি কিশোরদের হকি, স্কোয়াশ ও অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিয়েছেন।
২০১০-১১ মৌসুমে মাত্র একমাসের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০১২ ও ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য ছিলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও মিড ওয়েস্ট রাইনোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, চিটাগং ভাইকিংস, মিস আইনাক নাইটস ও রাইজিং স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১১ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস বনাম মিড ওয়েস্ট রাইনোজের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
জানুয়ারি, ২০১৭ সালে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একট শতক ও দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ে দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ইতোমধ্যেই বিপিএল ও আফগানিস্তানভিত্তিক শাপিজা ক্রিকেট লীগে অংশ নিয়েছেন। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে পরের মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলতে তাঁকে দলে রাখা হয়।
২০১৭ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ঐ বছরের শেষদিকে গ্রায়েম ক্রিমারের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চারদিনের ঐতিহাসিক গোলাপী-বলের একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ব্লেসিং মুজারাবানি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ফলো-অনের কবলে পড়লে দুইবার ব্যাটিং করতে হয় ও দুইদিনের মধ্যেই খেলার ফলাফল চলে আসে। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ১২০ রানে পরাভূত হয়েছিল। ১৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। বেশ ভালোমানের ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সফরের মাঝামাঝি সময়ে বিপিএলের দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে চুক্তিবদ্ধ হবার প্রস্তাবনা পান। ঐ প্রতিযোগিতার প্রথম মৌসুমে দূর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনার কবলে পড়েছেন। ইংল্যান্ডে লীগের খেলায় কাঁধে চোট পান ও দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। শ্রীলঙ্কায় জিম্বাবুয়ের সফরে খাবারে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিরসনে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।
২০২০-২১ মৌসুমে শন উইলিয়ামসের নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/৬৯ ও ২/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও উভয় ইনিংসেই তিনি শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এ টেস্টে আফগানিস্তান দল ৬ উইকেটে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
