|

রুস্তমজী জামশেদজী

১৮ নভেম্বর, ১৮৯২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। বামহাতি স্পিনার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পার্সি দলের সদস্যরূপে বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় হিন্দু দলের বিপক্ষে ১২২ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৪/৬১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৬১ লাভ করেছিলেন। এরপূর্বে সেমি-ফাইনালে ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ৭/৮৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমের চূড়ান্ত খেলায় ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ১০৪ রান খরচায় ১০ উইকেট পান। পার্সি দল জয় পেলে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বীর বনে যান, চেয়ারের উপর দাঁড়ান ও প্যাভিলিয়নে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯২০-এর দশকের শুরুতে বিখ্যাত ইংরেজ বামহাতি স্পিনার উইলফ্রেড রোডসের সাথে বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলারে খেলেন। গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি তাঁকে বলেছিলেন – যদি আমি তোমার স্পিনের গুণ আমার মাঝে প্রবাহিত করতে পারতাম তাহলে কোন দলই শতরানের গণ্ডী অতিক্রম করতে পারতো না।

বোম্বের জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তার পুত্র ছিলেন। ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করার পর পড়াশোনা করেননি। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে বুক বরাবর বল ফেলে ব্যাটসম্যানদেরকে অপ্রস্তুত করে ফেলতেন। ৩০ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর।

১৯৩৩ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণে সুযোগ পেয়েছিলেন। এরফলে, ছয়জন পার্সি ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বোম্বের জিমখানায় অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর ২৭ দিন। এরফলে, ভারতের প্রথম ও সর্বকালের তালিকায় সপ্তম বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট অভিষেকধারীর মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। খেলায় ভারত দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

বিজয় মার্চেন্ট, লালা অমরনাথ, লধা রামজী ও এলপি জয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ ও ১ রান তুলে উভয় ইনিংসেই অপরাজিত ছিলেন। একবারমাত্র বোলিং করার সুযোগ পান। প্রথম ইনিংসে তিনি ১৩৭ রান খরচায় চার্লি বার্নেট, ব্রায়ান ভ্যালেন্টাইন ও লেসলি টাউনসেন্ডের তিন উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, লেসলি টাউনসেন্ডকে সাদাসিদে কট এন্ড বোল্ডে ফেরৎ পাঠান। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল: ৩৫-৪-১৩৭-৩।

সব মিলিয়ে ২৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ৪৪ স্ট্রাইক রেটে ২২.১২ গড়ে ১৩৪ উইকেট লাভ করেন। চল্লিশের বয়সেও চমৎকারভাবে ফিল্ডিং করতেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার প্রচলন ঘটে। তবে, বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় বেশ সুনাম কুড়ান। পার্সি দলের সফলতায় বিরাট ভূমিকা রাখেন।

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে বোম্বে ডাইয়িংয়ে কেরাণীর চাকুরী পান। ৫ এপ্রিল, ১৯৭৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে ৮৩ বছর ১৩৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    চার্লি ফিনলাসন

    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ইংল্যান্ডের ক্যাম্বারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    আতিক-উজ-জামান

    ৩০ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, করাচী, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস ও পাকিস্তান রিজার্ভসের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    ডুডলস ট্যাপস্কট

    ১৮ মার্চ, ১৮৯৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ‘ডুডলস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • | |

    অস্টিন ম্যাথুজ

    ৩ মে, ১৯০৪ তারিখে ওয়েলসের পেনার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় অনবদ্য খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ল্যামপিটারভিত্তিক সেন্ট ডেভিডস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দারুণ ক্রীড়াবিদ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি…

  • |

    ম্যাল ম্যাথসন

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে নর্থ অকল্যান্ডের ওমাহায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতি মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সহজাত প্রকৃতির ডানহাতি মিডিয়াম-পেসার হিসেবে খেলতেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।…

  • |

    কাইল অ্যাবট

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে কোয়াজুলু-নাটালের এম্পাঙ্গেনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিয়ার্সনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। পেস ও বলে গতি সঞ্চারণে বেশ সক্ষম ছিলেন ও…