৬ এপ্রিল, ১৯৭৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কোটেভিত্তিক আনন্দ শাস্ত্রালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। প্রাণবন্তঃ ও কঠোর পরিশ্রমী বামহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বলকে সুইং করানোয় দক্ষতা অর্জন করেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা সাউথ, ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব এবং সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ১৯টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় খেলায় অংশ নিতে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে এরিক উপশান্ত’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/১২৫ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসামান্য ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
২০০০-০১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২০ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১* ও ০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শন পোলকের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০২ সালে ইংল্যান্ডে মৌসুম পূর্ব সফরে যান। সেখানে তিনি তাঁর খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেন ও সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কারণে আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোলিং কোচ ও বায়োমেকানিক্স বিশেষজ্ঞ ড্যারিল ফস্টারের পরামর্শক্রমে বল ছোঁড়ার পূর্ব মুহূর্তে কব্জির অবস্থানের পরিবর্তন ঘটান। এরফলে কনুঁইয়ের সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত করার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করেন।
২০০২ সালের শেষদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন। কিন্তু, আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে ও বোলিংয়ের কার্যকারিতা অনেকাংশে হারায়। পরবর্তী দুই বছরও আপ্রাণ চেষ্টা চালান। দৃশ্যতঃ তিনি বেশ নিষ্প্রভ হয়ে পড়েন।
২০০২-০৩ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১১* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার পর ইংল্যান্ডের লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে, প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে আবারও ছন্দ খুঁজে পেলে দল নির্বাচকমণ্ডলী ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কা দলে তাঁকে যুক্ত করে। ৭ জুন, ২০০৬ তারিখে তাঁকে ওডিআই দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা জানানো হয়। সাধারণতঃ দলের উজ্জ্বীবনী শক্তি ধরে রাখা, সাজঘরে রসিকতায় পরিপূর্ণতা আনয়ণ ও বল হাতে স্বীয় দায়িত্ব পালনে নিজেকে সম্পৃক্ত করতেন। ৯ মার্চ, ২০০৮ তারিখে আবারও তাঁর বোলিং ভঙ্গীমা নজরদারীর কবলে পড়ে।
