|

রয় কিলনার

১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লো ভ্যালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দক্ষতা, খ্যাতি ও ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল তাঁর জীবন। দলীয় সঙ্গীদের যে-কারও তুলনায় সর্বাধিক অবদান রাখতে সচেষ্ট থাকতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯১১ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ইয়র্কশায়ারের তারকা ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন।

দশ মৌসুমে সহস্র রান ও পাঁচবার ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, চারবার ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। সব মিলিয়ে ৩০.০১ গড়ে ১৪৭০৭ রান ও ১৮.৪৫ গড়ে ১০০৩ উইকেট পেয়েছেন। ১৯২০-এর দশকের শুরুতে দূর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে সকলের নজর কাড়েন।

১৯২৪ থেকে ১৯২৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও কোন অংশেই তাৎপর্য্যবিহীন ছিল না। ১৯২৪ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৩৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। পার্সি চ্যাপম্যান, জর্জ উড, হার্বার্ট সাটক্লিফ ও মরিস টেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ জুলাই, ১৯২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

ঐ বছরের শেষদিকে কিছু দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কল্যাণে শীতকালে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন নিশ্চিত করেন। সফরের প্রথম খেলায় ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৩ রান তুলেন। পুরো সিরিজ জুড়েই ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে ক্রমাগত সাফল্যে স্বাক্ষর রাখেন।

অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্টে উভয় ইনিংস থেকে চারটি করে উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/১৪ পেয়েছিলেন। এরপর, সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে আরও চার উইকেট পান। এছাড়াও, মেলবোর্ন টেস্টে আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৪ রান তুলেন ও সিরিজে দলের একমাত্র টেস্ট বিজয়ে অংশ নেন।

এ সিরিজ শেষে ২৯.৮০ গড়ে ১২৯ রান ও ২৩.৪৭ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন। মরিস টেটের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট-সংগ্রাহকে পরিণত হন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, কেউ না সহায়তা করলেও কেবলমাত্র তিনিই উইকেট নিয়ে মরিস টেটকে সহায়তা করেছিলেন। এ সফর শেষে বল হাতে তাঁর ছন্দহীনতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯২৫-২৬ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। তবে, ব্যাট কিংবা বল হাতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

১৯২৬ সালে নিজ দেশে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৫ এপ্রিল, ১৯২৮ তারিখে ইয়র্কশায়ার কেন্ডরে এলাকায় বার্নসলি ফিভার হাসপাতালে অন্ত্রজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৭ বছর ১৭১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। নেভিল কারডাসের অন্যতম প্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ‘প্রাণোচ্ছল জীবনের অধিকারী ক্রিকেটারের মৃত্যুতে ব্যথিত। তবে, এ বছরের বসন্তের পূর্বেই তাঁর বিদায়ে ব্যথাতুর হয়েছি।’ ১৯২৪ সালের উইজডেন অ্যালমেনাকে তাঁর প্রতিকৃতি প্রকাশ করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট