১১ নভেম্বর, ১৯৪২ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার ব্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বমানের সেরা পেসারদের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম গতিশীল উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে দলের পূণর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানা ও গায়ানা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ব্রিটিশ গায়ানার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৬৬-৬৭ ও ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখায় তাঁকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়।
১৯৬৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৫৯ টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, টেস্টে ৪২.৪৯ গড়ে আটটি শতক সহযোগে ৪৩৩৪ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের বক্সিং ডে টেস্টে অংশ নেন। চার্লি ডেভিস ও প্রফ এডওয়ার্ডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭৬ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৩০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।
একই মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, প্রথম শতক হাঁকানোর জন্যে তাঁকে পঞ্চদশ টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। জ্যামাইকার কিংস্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ সফলতা পান। এরপর, ১৯৭৩ সালে এজবাস্টনে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি শতরান করেছিলেন।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৬৯ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৫ সালে ওয়াকায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪৫ বল মোকাবেলায় ১৬৯ রানের মনোমুগ্ধকর শতরানের ইনিংস খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। এ পর্যায়ে জেফ থমসন ও ডেনিস লিলি’র ন্যায় বিখ্যাত বোলারদের বলকে পুল ও হুকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে তা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মন জয় করেছিল। এ ইনিংসটিতে ২৭টি চার ও ছয়টি ছক্কার মার ছিল। নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রীনিজ বাদ পড়লে ল্যান্স গিবস তাঁকে ব্যাটিং উদ্বোধনের জন্যে মনোনয়ন দেন। তাঁর এ শতক বাকীদেরকে বেশ উজ্জ্বীবিত করে ৫-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়া সিরিজে একমাত্র জয়ের সন্ধান এনে দেয়। সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক লিন্ডসে হ্যাসেট ধারাভাষ্যকর্মে থেকে মন্তব্য করেন যে, তাঁর দেখা এটি সেরা ইনিংস।
এছাড়াও, ২২ জুন, ১৯৭৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দর্শনীয় শতক হাঁকান।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৫ এপ্রিল, ১৯৭৭ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৮৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৪০ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপূর্বে একই সফরের ১৬ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে অ্যালবিওনে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। গায়ানীয় সরকারের জুনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, কোচিং কর্মে জড়ান। এক পর্যায়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৫৭ বছর ২৯৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
