১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ব্যাটিংয়ে বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন। মিড-উইকেট বরাবর বল ফেলে রান তুলতে তৎপরতা দেখিয়েছেন। বল হাতে নিয়েও স্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ বছর বয়সে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে অকল্যান্ডের পক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। রান সংগ্রহের পাশাপাশি উইকেট লাভে দক্ষতার পরিচয় দেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ৬/৪০ পান। এর পরের খেলায় ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ১১২ রান তুলেন। এ ধরনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনু্ষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৬ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহসহ খেলায় দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬৬ রান অতিক্রম করেন। ঐ খেলায় তিনি ১৯ ও ৯৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ২ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে খেলেন। বল হাতে নিয়ে ০/১৭ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৭ মে, ১৯৬৫ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। ভারত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড সফরে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তবে, এরপর থেকেই তাঁর খেলায় ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ আট টেস্ট থেকে মাত্র ৭১ রান ও শেষ ২২ ইনিংস থেকে মাত্র ২৮৭ রান যোগ করতে পেরেছিলেন।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২০ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চূড়ান্ত ও পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২ রান সংগ্রহসহ ১/৩৮ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অবশ্য, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সিরিজের তিন টেস্টে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করেন ও একটি উইকেটের সন্ধান পান।
