১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১২ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২২ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রোহন জয়াসেকেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইমরান খানের তোপে শ্রীলঙ্কা দল গুড়িয়ে যায়। ইমরান খানের খেলায় ১৪ উইকেট লাভে তিনি দুইবার ০ ও ৩ রানে বোল্ড হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১০৫ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ইনিংস ও ১০২ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে আবারও পাকিস্তান সফরে যান। ৩ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে হায়দ্রাবাদের সিন্ধুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআই খেলেন। এরপর, ৭ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২ ও ২* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/৬৮ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র দূর্দান্ত শতক হাঁকানোর পরও সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক ক্ষমতাহীন বোলার হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেছেন। প্রতি ৫৮৬ বলে একটি করে উইকেট লাভ করেছিলেন। গড়ে প্রতি উইকেট লাভে তাঁকে ৯৭ ওভার বোলিং করতে হয়েছিল। অন্যভাবে লেখা হলে দেখা যায় যে, উইকেটের উভয় প্রান্তে পাঁচ-দিনের টেস্টে বোলিং করলে প্রতিপক্ষের খেলা শেষ হবে মাত্র চার উইকেট খরচায় ও বিপক্ষ দল ১৩৫৫ রান তুলতে সক্ষম হবে।
তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে অধিক সফল ছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে সিরিজে ২৫ উইকেট দখল করেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ তারিখে তাঁকে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত করা হয়।
