|

রবিন সিং, ১৯৭০

১ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণ করতে পারতেন ও উপযুক্ত পিচে বাঁক খাওয়াতে সক্ষমতা দেখাতেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দিল্লি দলে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন। সব মিলিয়ে মাত্র সাত মৌসুম খেলেছেন। তবে, ব্যাপকসংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন। ৪৫ খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৫৫ গড়ে ১৪৯ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১২বার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

শুরুতে প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে খেলতে থাকেন। তবে, মনোজ প্রভাকর খেলা থেকে সড়ে গেলে অতুল বসনের সাথে নতুন বলের জুটি গড়েন। এমনকি আশীষ নেহরা ও অমিত ভাণ্ডারী’র আবির্ভাবের পরও দিল্লি দলে দূরন্ত বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতে থাকেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলা দলের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। দুই উইকেট লাভ করলেও একমাত্র ইনিংসে ৩৩ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তী মৌসুমে পরের খেলায় হরিয়াণার বিপক্ষে অংশ নেন। ৭/৫৩ ও ২/৩৮ লাভ করেন। এরপর, পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৬/৮০ ও হরিয়াণার বিপক্ষে ৫/৫২ পান। দিল্লি দল ঐ মৌসুমে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিলেও মুম্বইয়ের কাছে পরাভূত হয়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে প্রাথমিক দলে তাঁকে রাখা হয়। ঐ মৌসুমের শীতকালে রঞ্জী ট্রফিতে উপর্যুপরী ছয়-উইকেট পান। আঘাতের কারণে জবাগল শ্রীনাথ দলের বাইরে থাকলে জাতীয় দলে কমপক্ষে একজন সিমারকে রাখার সুযোগ আসলেও অজিত আগরকরের কারণে দলে ঠাঁই পাননি।

ঐ মৌসুমে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে নেদারল্যান্ডস সফরে অসাধারণ খেলেন। সেখানে তিনি ৭/২৩ ও ৫/২৩ নিয়ে নেদারল্যান্ডস ‘এ’ দলকে যথাক্রমে ৫৬ ও ৯৫ রানে গুটিয়ে দিতে যথার্থ ভূমিকা রাখেন। এরই মাঝে বাংলাদেশে ফিল্ডিংরত অবস্থায় রমন লাম্বা’র অকাল মৃত্যুতে তাঁর মাঝে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে উপর্যুপরী তিনবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। তন্মধ্যে, সার্ভিসেসের বিপক্ষে ৫/৬১ ও ৫/২৬ পান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র দশ উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। এরপর, ভারতে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৪/৮৩ পান। ঐ শীতে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে জবাগল শ্রীনাথ, বেঙ্কটেশ প্রসাদ ও দেবাশীষ মোহান্তী’র সাথে তাঁকে বিকল্প বোলার হিসেবে ভারত দলে রাখা হয়। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনেই তাঁকে রবিন সিং জুনিয়র হিসেবে নামধারণ করতে হয়।

১৯৯৯ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আরেক রবিন সিংয়ের ন্যায় তিনিও ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২১৭ নম্বর খেলোয়াড়ের পর তাঁর অবস্থান ২১৮ নম্বর। বেঙ্কটেশ প্রসাদ, অজিত আগরকর, অবে কুরুবিল্লা, দোদ্দা গণেশ ও দেবাশীষ মোহান্তী’র কারণে ২৯ বছরের পূর্বে তাঁর টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি। খেলায় তিনি তিন উইকেট লাভ করেন। প্রথম ইনিংসে ২/৭৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিক গড়ায়। একটি টেস্ট পরিত্যক্ত হলে স্বাগতিক দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। এরপর, দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হলে আর তাঁকে ভারত দলে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    নিপার নিকোলসন

    ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯০৯ তারিখে ইংল্যান্ডের মিলম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়েছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    অমর সিং

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আলফ্রেড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৯-৪০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    গ্যারি সোবার্স

    ২৮ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে বার্বাডোসের চেলসী রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    জোই বেঞ্জামিন

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে সেন্ট কিটসের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    আড্রিয়ান কুইপার

    ২৪ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েস্টার্ন কেপের এলগিনে তাঁদের ফলমূল ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেন কুইপার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও ভ্রাতৃষ্পুত্র…

  • |

    স্যামি কার্টার

    ১৫ মার্চ, ১৮৭৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থোরাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের সাথে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, সমসাময়িক অনেকে স্ট্যাম্পের কাছে থাকলেও তিনি তা করতেন না। ব্যাটিংকালে কাঁধের উপর দিয়ে স্কুপ করতেন। ব্যাটিংয়ে…