১৯ জুলাই, ১৯২০ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
স্যার এভারটন উইকসের ন্যায় তিনিও ব্যতিক্রমী, খাঁটি মানসম্পন্ন ও সহজাত খেলোয়াড় ছিলেন। তবে, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনকে দীর্ঘতর করতে পারেননি। সকল ধরনের গুণাবলী থাকলে প্রায়শঃই গণনার বাইরে থাকতেন। চশমা পরিধান করতেন ও ‘সুগারফুট’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নিয়ে নিজেকে অনেক বেশী এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। বলের নিশানায় ব্যাটকে নিয়ে যেতেন। প্রয়োজনে পদযুগলকে সামনে কিংবা পিছনে নিতেন। এরফলে, অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের তুলনায় অতিরিক্ত সময় পেতেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কৈশোরকালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লাইড ওয়ালকট, বার্কলি গাসকিন, এভারটন উইকস, জন গডার্ড, প্রায়র জোন্স ও উইল্ফ ফার্গুসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১ ও ৯৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনের অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে আট নম্বর অবস্থানে নেমে ১০৭ রানের একমাত্র শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এরফলে, প্রথম গায়ানীয় হিসেবে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। এছাড়াও, প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে টেস্টে এ অবস্থানে থেকে শতক হাঁকিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে লেগ-ব্রেক বোলিং করে ভারতের শীর্ষসারিতে ভাঙ্গন ধরান। ২৩ ওভারে ৩/৫২ পেয়েছিলেন। রুসি মোদি, বিজয় হাজারে ও দত্তারায় ফাড়কর তাঁর শিকারে পরিণত হন।
আরও হয়তোবা টেস্ট খেলতে পারতেন। তবে, ফ্রাঙ্ক ওরেল, এভারটন উইকস ও ক্লাইড ওয়ালকটের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের ভীড়ে সীমিত পর্যায়ের সুযোগ পেতেন। এরফলে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও কিছুটা নিচেরদিকে ব্যাট হাতে নামতে হতো।
১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ২৬.৩৫ গড়ে ৮৯৬ রান ও ৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯ ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তন্মধ্যে, একবার উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে দুইটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৪ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে কানাডার টরন্টোয় ৮৪ বছর ১৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ভ্রাতৃ চতুঃষ্টয় প্রত্যেকেই গায়ানার পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, অপর ভ্রাতা সিরিল ক্রিস্টিয়ানি ১৯৩০-এর দশকে উইকেট-রক্ষক হিসেবে চার টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।
