৮ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে জামালপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের অন্যতম অভিজ্ঞতাবিহীন খেলোয়াড় ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি অবশ্য যথেষ্ট গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও নিজের উইকেট রক্ষার্থে সচেষ্ট ছিলেন। ইনিংস গঠনে অপূর্ব ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় দিতেন। ‘নয়ন’ কিংবা ‘নিরালা’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, ‘রকিবুল হাসান’ নামে পরিচিত ছিলেন। ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেয়ার মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক ঘটে। ঐ প্রতিযোগিতায় যথেষ্ট ভালোমানের খেলা উপহার দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ২৪৯ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, নিজস্ব তৃতীয় খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২১ রান তুলেছিলেন।
২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব রয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বরিশাল বিভাগ, মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ঢাকা প্লাটুন ও মিনিস্টার রাজশাহীর পক্ষে খেলেছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। মার্চ, ২০০৭ সালে বরিশাল বনাম সিলেট বিভাগের মধ্যকার ৩১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট, ৫৫টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে, কোনটিতেই শতরানের ইনিংসের সন্ধান পাননি।
ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেন। দারুণ খেলার সুবাদে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ৯ মার্চ, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক ঘটে। এরপর, ঐ বছরের শেষদিকে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের ফিরতি সফরে টেস্ট দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। সেখানে ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে ১৫ ও ২৮ রান তুলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়লাভ করে।
গ্রেনাডায় দ্বিতীয়সারির দল নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৫ রানের ইতিবাচক খেলা উপহার দেন ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ বিজয়ে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। তবে, নিউজিল্যান্ড গমনের পর থেকে খেলার মান ক্রমশঃ নিম্নের দিকে চলে যেতে থাকেন। বাংলাদেশে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেয়ার সুযোগ হারান। পাশাপাশি, ২০১০ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৩০-সদস্যের প্রাথমিক দলেও তাঁকে রাখা হয়নি।
মার্চ, ২০১০ সালে বাংলাদেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করে দলীয় সঙ্গীদের মর্মাহত করেন। অবশ্য এক সপ্তাহ পর অবসর থেকে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে। ঐ সফরে একটিমাত্র খেলায় অংশ নেয়ার পর আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্যে বিবেচিত হন। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও তাঁকে দলে রাখা হয়। নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। দুই খেলায় অংশ নেয়ার পর দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর তাঁকে ওডিআই দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। ২০১১-১২ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারী দল ২২৯ রানে জয় তুলে নেয় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
