৩০ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে কুরুনেগালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘ ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। কুরুনেগালাভিত্তিক মালিয়াদেব কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফর যান। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অতুলা সামারাসেকেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। ০/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ২ রান তুলেছিলেন। তবে, রবি রত্নায়েকে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায়। অবশ্য, দ্বিতীয় টেস্টে তুলনামূলকভাবে অধিক সফল হয়েছিলেন। একই সফরের ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ওভালে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
চণ্ডীগড়ে স্বাগতিক ভারতের উচ্চমানের ব্যাটসম্যানসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে ৩/৬০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তন্মধ্যে, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন ও শচীন তেন্ডুলকরের উইকেট পেয়েছিলেন। বিস্ময়করভাবে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পূর্ব পর্যন্ত আর খেলার সুযোগ পাননি। ১৭ আগস্ট, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ৫* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাঝে-মধ্যে বোলিং করার জন্যে আমন্ত্রণ পান ও আবারও উইকেট শূন্য অবস্থায় প্যাভিলিয়নে ফেরৎ আসেন। ০/২১ ও ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলায় পরিণত হয়।
উদীয়মান মুত্তিয়া মুরালিধরনের উত্থানে খেলার সুযোগ আরও ক্ষীণতর হয়ে আসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। নিচেরসারিতে আরও কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমিত সুযোগ পেয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। বলকে বেশ শূন্যে ভাসিয়ে পর্যাপ্ত বাউন্স প্রদানে দক্ষ ছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
