| |

খান্দু রংনেকর

২৭ জুন, ১৯১৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

পরিবারের পাঁচ সন্তান আঁতুড়ঘরে মৃত্যুবরণ করলেও তিনি ষষ্ঠ সন্তানরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তবে, চার বছর বয়সে গ্যাস্ট্রোয়েনারিটিসে আক্রান্ত হন ও এক সময় সুস্থ হন তিনি। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হোলকার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

নিজ সময়কালে ভারতের সেরা ও আকর্ষণীয় বামহাতি ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। এছাড়াও, অসাধারণ ফিল্ডার ও ব্যাডমিন্টন তারকার যুগ্ম গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করলেও ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতে পারতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে না খেললেও অবিশ্বাস্য ফিল্ডিং গুণে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ফিল্ডিং, ক্যাচ তালুবন্দীকরণ ও বল নিক্ষেপে উভয় হাতকেই সমানে ব্যবহার করতেন। বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন।

রঞ্জী ট্রফির অভিষেক খেলায় দারুণ খেলেন। মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯৮ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ১০২ রান তুলেছিলেন। এরপর আরও দূর্দান্ত ইনিংস খেলে ১৯৪০-এর দশকে ভারতীয় ক্রিকেটে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর ফিল্ডিং বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। সিএস নায়ড়ু’র বলে গুল মোহাম্মদের ক্যাচ কভার-পয়েন্ট এলাকা থেকে মুঠোয় পুড়ে জনপ্রিয়তা পান ও শহরের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল।

দুই দশকের অধিক সময় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ছিলেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ দলের পক্ষে খেলেন। রঞ্জী ট্রফিতে নিজস্ব শেষ খেলায় অংশ নিয়ে ১১৩ রান তুলেছিলেন। এরফলে, স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে রঞ্জী ট্রফির প্রথম ও শেষ খেলায় শতরানের ইনিংস খেলার গৌরব অর্জন করেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। হিমু অধিকারী, জেনি ইরানী ও গোগুমাল কিষেনচাঁদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অ্যাডিলেডে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৬ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরে তিনি ১, ০, ৬, ১৮, ৮ ও ০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৮৫ খেলায় অংশ নিয়ে ১৫ শতক সহযোগে ৪২ গড়ে ৪৬০২ রান সংগ্রহ করেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে ৪২ বছর বয়সেও অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ৪২ খেলা থেকে ৮ শতক সহযোগে ৪৯ গড়ে ২৫৪৮ রান তুলেছেন।

এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়েছেন। একক প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হলেও দ্বৈত প্রতিযোগিতায় শিরোপা লাভ করেন। মাধব মন্ত্রী তাঁর সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেছেন যে, ক্রিকেট মাঠেও তাঁর ব্যাডমিন্টনের ক্ষীপ্রতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর থানে পৌরসভার সভাপতি, বোম্বে ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি ও বিসিসিআইয়ের সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। বিমল তাই রংনেকর নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। কণ্ঠনালির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১১ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে ৬৭ বছর ১০৭ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মুম্বইয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের স্পোর্টস্টার ট্রফিতে বিজয় মার্চেন্ট, বিজয় মাঞ্জরেকরদাত্তু ফাড়করের সাথে তাঁর নামানুসরণেও চারটি দলের নামকরণ করা হয়। থানের (ওয়েস্ট) ব্যাডমিন্টন মিলনায়তন তাঁর নামানুসরণে রাখা হয়।

Similar Posts

  • |

    চামারা দুনুসিংহে

    ১৯ অক্টোবর, ১৯৭০ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে অ্যান্টোনিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সারাসেন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৫…

  • | |

    পিটার ফুলটন

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন ও ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফাস্ট বোলারের উপযোগী দৈহিক গড়ন নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হন। দীর্ঘ উচ্চতার কারণে ‘টু মিটার…

  • | |

    গ্রেগ ম্যাথুজ

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর বয়সে রাগবি খেলায় মনোনিবেশ ঘটালেও পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। শুরুতে অফ-স্পিনার ও অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে খেলায় প্রভাব ফেলতেন। তবে, উচ্চ…

  • |

    ডেল হ্যাডলি

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের রিকার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার ছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পেস বোলিং করতেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং না করলেও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। এছাড়াও, বলকে সুইং করাতে পারতেন। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পারতেন না। ক্রমাগত পিঠের আঘাতের…

  • |

    চন্দ্রশেখর গড়কড়ি

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র…

  • |

    আর্থার জোন্স

    ১৬ আগস্ট, ১৮৭২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের শেল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…