২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
লঘুচরণের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পিনারদের বিপক্ষে দারুণ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর স্ট্রোকপ্লের মারে দর্শকদের নির্মল বিনোদন জোগাতেন। সময়ে সময়ে দলের প্রয়োজনে বড় ধরনের মারে অগ্রসর হতেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বিহার ও দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪০ গড়ে ৮১৫৫ রান পেয়েছেন। বেশ দৌঁড়ুতে পারতেন। সচরাচর কভার অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। ক্রিজে অবস্থানকালীন উইকেটে দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন।
১৯৬৭ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের সদস্যরূপে যান। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্ট সফরগুলোর মাত্র একটিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর মনসুর আলী খানের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে তাঁকে ভারত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সুব্রত গুহ’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯ ও ১৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, দুই ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ঐ টেস্টে তাঁর দল ছয় উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
নিজস্ব অভিষেক মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে দিল্লির পক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে সাউদার্ন পাঞ্জাবের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলায় ১১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। রাজস্থানের বিপক্ষে করেছিলেন ১৫১ রান। পরের মৌসুমে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। ৪৭ গড়ে ৫১৯ রান তুলেন ও ১৮ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেন।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে বিহারে চলে যান। ঐ দলে প্রথম মৌসুমেই ৬৯ গড়ে ৬২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ক্যারিবীয় দল ভারত সফরে আসলে শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের পরাজয় রোধ করতে এগিয়ে আসেন। সেন্ট্রাল ও ইস্ট জোনের পক্ষে ৫২ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তবে, ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ব্যবধানে জয় পায়। ভারতীয় বোর্ড সভাপতি একাদশের সদস্যরূপে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৩১ ও ৭৪ রান তুলেন।
৫৪ গড়ে ৫৪০ রান তুলে বিহার দলকে প্রথমবারের মতো রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যেতে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের ঐ প্রতিযোগিতায় দলীয় সঙ্গীদের কেউই ৩২০ রানের অধিক রান তুলতে পারেননি। বাংলার বিপক্ষে ৪১ ও ৬৯, দিল্লির বিপক্ষে ১১২ ও ৫৫ এবং কর্ণাটকের বিপক্ষে ১৪৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দিল্লির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলাটির উভয় ইনিংসেই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলন। তবে, চূড়ান্ত খেলায় বোম্বের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ৩০ ও ২ রান তুলতে পেরেছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত ঘরোয়া আসরে খেলেছেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও টাটায় কাজ করতেন। বিহার ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট সংস্থায় সচিব হিসেবে কাজ করতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই পুত্র সন্তানের কনিষ্ঠ বিনীত সাক্সেনা ঝাড়খণ্ডের পক্ষে খেলেছে। ২০১০ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ১৬ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ৬৬ বছর ৩৩০ দিন বয়সে জামশেদপুরের টাটা মেইন হসপিটালে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
