| |

রাকেশ শুক্লা

৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে চমৎকার লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, বিহার ও বাংলা দলের অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেলেও ভারতের এক টেস্টের বিস্ময়কারীতে পরিণত হন। মূলতঃ লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের সাথে কার্যকরী গুগলি বোলিংয়ে অধিক সফল ছিলেন।

চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দলে আসার পরপরই শক্তিধর দিল্লি দল তাঁর ভূমিকার মূল্যায়ণ করতে শুরু করে। ঐ দলের পক্ষে পাঁচ মৌসুম খেলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে কর্ণাটকের প্রথম ইনিংসে সংগৃহীত ৭০৫ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাবে বিরাট ভূমিকা রাখেন। বল হাতে ৬৩ ওভার বোলিং করে ৩/১৫৮ লাভ করেন। এরপর, ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে রাজেশ পিটারের সাথে ১১৮ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে শিরোপা এনে দেন।

১৯৮২ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন সফররত শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে শুরু হওয়া ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অরুণ লালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রয় ডায়াস ও দিলীপ মেন্ডিসকে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে কুপোকাত করেন। এ দু’জন দলের সংগ্রহকে ১১০ রানে নিয়ে গেলে ৩৪ বছর বয়সী রাকেশ শুক্লা স্লিপ অঞ্চলে রয় ডায়াসকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করান। এরপর, দিলীপ মেন্ডিসকে ১০৫ রানে বিদেয় করেছিলেন। পরবর্তীতে এগুলোই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র সাফল্য ছিল।

খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। প্রথম ইনিংসে ভারত দল ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট পতনের পর ইনিংস ঘোষণা করলে তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে, নিচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যান ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬ শতক সহযোগে ৩৭৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার পর হরিয়াণার বিপক্ষে ১৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। এরপর, পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫/৭৫ লাভ করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনেই রান ও উইকেট লাভে দক্ষতার পরিচয় দেন। তাসত্ত্বেও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩১.৯১ গড়ে ৩৭৯৮ রান ও ২৪.৫৩ গড়ে ২৯৫ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। সাতবার পাঁচ-উইকেট ও একবার দশ উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। এছাড়াও, ছয়টি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে বিহারের পক্ষে ২২টি ও দিল্লির পক্ষে ৬৮ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, দিল্লি দলের সদস্যরূপেই অধিকতর সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ৫ শতক সহযোগে ৩৮.২৭ গড়ে ২০৬৭ রান ও লেগ-ব্রেক গুগলি বলে ২২.০৩ গড়ে ১৯০ উইকেট দখল করেছিলেন।

ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে কোলনের পক্ষে দুই মৌসুম প্রতিনিধিত্ব করেন। মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে ডারহামের পক্ষে এক মৌসুম খেলেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে বাংলা দলের সাথে এক মৌসুম অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট পরামর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পেশাদার ক্রিকেটারদের সহায়তায় অগ্রসর হন। এছাড়াও, চেতন চৌহানের নেতৃত্বাধীন দিল্লি দল নির্বাচক কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি, অল ইন্ডিয়া রেডিও’র জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ছিলেন।

২৯ জুন, ২০১৯ তারিখে দিল্লিতে ৭১ বছর ১৪৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    মনিন্দার সিং

    ১৩ জুন, ১৯৬৫ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, আম্পায়ার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লে লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভারতের বিখ্যাত বামহাতি স্পিনার। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে…

  • | |

    সৈয়দ কিরমানি

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘কিরি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও রেলওয়ের…

  • | |

    রোশন মহানামা

    ৩১ মে, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ম্যাচ রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের…

  • |

    জহির খান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন ভারতীয় ফাস্ট বোলার ছিলেন। পুরনো বলকে ঘুরাতে পারতেন ও ইয়র্কারের সমন্বয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। ক্রিকেটের জন্যে প্রকৌশলী হতে…

  • |

    রমেশ দিবেচা

    ১৮ অক্টোবর, ১৯২৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের কডাকডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সুইং ও অফ-ব্রেকের মাঝামাঝি প্রকৃতির বোলিং করতেন। ২৫ গড়ে ২১৭টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছেন। অন্যদিকে, ২০-এর গড়ে…

  • | | | | |

    ক্লাইড ওয়ালকট

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের নিউ অর্লিয়েন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ক্লাইড ওয়ালকট বার্বাডোসভিত্তিক হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…