১৮ নভেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ও প্রাণবন্তঃ পেস বোলিং করতেন। তবে, ভুল সময়ে তাঁর জন্ম হয়েছিল। এ সময়ে স্পিন ও অল-রাউন্ডার নিয়ে দল সাজানো হতো। রঞ্জী ট্রফির অন্যতম সেরা সিমার হিসেবে নিজের পরিচিতি আনেন। রঞ্জী ট্রফিতে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সাউদার্ন পাঞ্জাব, পাঞ্জাব, দিল্লি ও হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৯৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২১.৮৯ গড়ে ৩৩৭ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ২৩বার পাঁচ-উইকেট ও দুইবার দশ উইকেট পেয়েছেন। রঞ্জী ট্রফিতে ১৯.১৭ গড়ে ২৯৭ উইকেট দখল করেছেন। তাসত্ত্বেও, ভারতের পক্ষে মাত্র একটি টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে মনসুর আলী খান পতৌদি’র অধিনায়কত্বে প্রায়শঃই কেবলমাত্র স্পিন বোলিং আক্রমণ নিয়ে দল মাঠে নামতো। নিজ দেশে খুব কম সময়ই দুইজন সিমারকে একত্রে খেলানো হতো। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সফলতা পাননি।
সরকারী চাকুরীজীবীর সন্তান ছিলেন। ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করে যাত্রা শুরুর পাশাপাশি উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় দারুণ খেলেন। উপর্যুপরী খেলায় এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৬৪ রান খরচায় ১০ উইকেট ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৪৫ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেছেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে এক উইকেট ও ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ব্যাঙ্গালোরে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে খেললেও উইকেটবিহীন অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। ঐ মৌসুম পর্যন্ত তাঁর খেলার মান সাধারণ পর্যায়ের হলেও এরপর থেকে আকস্মিকভাবে উত্থান ঘটে।
৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে দূর্দান্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে পনুস্বামী সীতারামের সাথে জুটি গড়ে জম্মু ও কাশ্মীর দলকে ২৩ ও ২৮ রানে গুটিয়ে দিতে বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ৬/৩ ও ৩/১৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে তাঁর সাফল্যটি অদ্যাবধি ভারতীয় বোলারের সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
১৫ বছর ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেবলমাত্র দুই মৌসুমে তাঁর গড় ৩০ ঊর্ধ্ব ছিল। দুইবার ১৫-এর নীচে ও তিনবার ২০-এর নীচে থাকে। শেষ দুই মৌসুমে ৪২ উইকেট পান ও মাত্র ১৩ গড়ে রান দেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।
১৯৬৪ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ভাগবত চন্দ্রশেখরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে এমএল জয়সীমা’র সাথে নতুন বল নিয়ে জুটি গড়েন। খেলায় তিনি ১৩ ওভারে ২২ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে এগুতে থাকে। এরপর আর তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন।
স্টেট ব্যাংক অব পাতিয়ালায় কাজ করতেন। তাঁর ভ্রাতা রবীন্দার পাল দিল্লির পক্ষে ৭ খেলায় অংশ নিয়ে ১৯ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অ্যান্থনি ডি মেলো’র ভারতীয় একাদশে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়েছিল। ৯ মে, ২০১৮ তারিখে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ৮০ বছর ১৭২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
