|

রাজেশ চৌহান

১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ দলের তারকা খেলোয়াড়ের খ্যাতি পান। অধিনায়ক চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের সাথে থেকে ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দলকে কয়েকটি দূরন্ত জয় এনে দেন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো ভারত দলে যুক্ত হন।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ৩৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বিনোদ কাম্বলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, দলনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। পুরো সিরিজেই অনিল কুম্বলে ও বেঙ্কটপতি রাজু’র সাথে দূর্দান্ত জুটি গড়েন। অফ-স্পিনার হিসেবে অনিল কুম্বলে’র লেগ-স্পিনের দারুণ পরিপূরক ছিলেন। পরবর্তী দুই বছর টেস্ট দলে অনিল কুম্বলে’র সাথে নিয়মিত সদস্যরূপে ভারত দলে খেলেন। ২৫ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৯৪ সালে ভারত দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। তবে, বল ছুঁড়ে মারার অভিযোগ আসে ও কয়েকটি টেস্টে আইসিসি’র নজরদারীতে পড়েন। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি এ অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। কিন্তু, তাঁর মানসিক অবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলায় বিঘ্ন ঘটায়। দুই বছর দলের বাইরে ছিলেন ও ১৯৯৭ সালে দলে প্রত্যাবর্তন করেন। তাসত্ত্বেও, স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে কিছুটা সফলতার ছোঁয়া ছিল তাঁর। দুইটি কারণে ভারতীয় ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৯৭ সালে নিজের স্বর্ণালী সময়ে করাচীতে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ের শেষ ওভার থেকে সাকলাইন মুশতাকের বল থেকে ছক্কা হাঁকিয়ে বীর বনে যান।

একই বছরে খবরে পরিণত হওয়া কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে অংশ নেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিশ্বরেকর্ড গড়া সর্বাধিক ৯৫২/৬ ইনিংস ঘোষণার সাথে নিজেকে যুক্ত করে রেখেছেন। খেলায় তিনি ৭৮-৮-২৭৬-১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এ পরিসংখ্যানটি দ্বিতীয় বাজে ঘটনারূপে স্বীকৃত।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। কলকাতা টেস্টের পর তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। ১৮ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৩০ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জবাগল শ্রীনাথের সুন্দর বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২১৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দীর্ঘকালীন টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে দলের পরাজয়ের সাথে যুক্ত না হবার রেকর্ড গড়েন। ২১ টেস্টে অংশ নিলেও ঐ সময়ে ভারত দলের কোন পরাজয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেননি। ভারত দল ১২ টেস্টে জয় পায় ও নয়টিতে ড্র করে।

১৯৯৮ সালে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার পর আর সুযোগ পাননি। তাসত্ত্বেও ঘরোয়া আসরে অংশ নিতে থাকেন। ২০০০-০১ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ে বসবাস করতে থাকেন ও ভিলাই স্টিল প্ল্যান্টে পিআরও হিসেবে কাজ করতে থাকেন। ২০০৭ সালে গাড়ী দূর্ঘটনায় আহত হন।

Similar Posts

  • |

    চামারা কাপুগেদেরা

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সহজাত প্রকৃতির আক্রমণাত্মক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও বলকে বাউন্ডারি সীমানার বাইরে ফেলার দিকেই অধিক তৎপরতা দেখাতেন। স্বল্পসংখ্যক প্রকৃত মানসম্পন্ন ও বিনোদনধর্মী…

  • |

    ভাগবত চন্দ্রশেখর

    ১৭ মে, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের মহীশূরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ডানহাতে পোলিওতে আক্রান্ত হন। তিন মাস তাঁকে হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়। এ পঙ্গুত্বের ফলে তাঁর বাহু অতি নমনীয় পর্যায়ে…

  • | |

    রামনাথ কেনি

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও বোম্বে…

  • |

    ফজল-ই-আকবর

    ২০ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • | | |

    ওমর হেনরি

    ২৩ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের স্টেলেনবশ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা-মাতা ও ছয় ভাই-বোনকে একটি কক্ষে গাদাগাদি অবসর শৈশবকাল অতিবাহিত করেছেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪…

  • | |

    স্টুয়ার্ট কার্লাইল

    ১০ মে, ১৯৭২ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ…