৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে গুজরাতের সুরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে উনায় অনুষ্ঠিত হিমাচলপ্রদেশের বিপক্ষে ৮/১৫ লাভ করেছিলেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে এটিই সেরা বোলিং হিসেবে রয়েছে।
১৯৯৮ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নেন। অজানা কারণে ভারতীয় ক্রিকেট থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। দুই বছরেরও কম সময় নিয়ে ওডিআইগুলোতে ওভারপ্রতি ৪.৮০ গড়ে ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টটিতে তেমন মন্দ খেলা প্রদর্শন করেননি।
লিস্ট-এ ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়লেও ওডিআই অভিষেক পর্বটি বেশ বিবর্ণময় ছিল। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ভারত দলকে ৪৮ ওভারে ৩১৬ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রার দিকে ধাবিত হতে হয়। খেলায় সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও বিশ্ব আসরে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। অংশগ্রহণকৃত ১০ খেলার ছয়টি ছিল জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও কেনিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ খেলায় ওভারপ্রতি ৪.২৬ রান খরচ করেছিলেন।
১৯৯৮ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। একই বছরে শারজায় অনুষ্ঠিত কোকা কোলা চূড়ান্ত খেলায় অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন ও রানের চাকা থমকে দেন। জাতীয় দলে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় সহসাই মিলিয়ে যান। দুই বছরের অধিক সময় দলের বাইরে থাকেন। তবে, বামহাতি স্পিনার রাহুল সঙ্ঘবি হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র ছিলেন না। দিল্লি ও উত্তরাঞ্চলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হন। ফলশ্রুতিতে, টেস্ট দলে তাঁক ঠাঁই দেয়া হয়।
একমাত্র টেস্ট খেলাটি ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে ঐতিহাসিক মুম্বই টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারত দল মামুলী ১৭৬ রানে গুটিয়ে যাবার পর সফরকারী দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৯৯/৫ ছিল। তিনি প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের উইকেট পেয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ম্যাথু হেইডেন ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ভারতের মুঠোয় থাকা খেলাটিকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে যেতে সমর্থ হন। ঐ খেলায় ৭৮ রান খরচায় দুই উইকেট দখল করেন। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এরপর আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
অপরিসীম দম নিয়ে বামহাতে স্পিন বোলিং করতেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর প্রচলিত ধাঁচের বাঁক নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৪ গড়ে ২৭১ উইকেট দখল করেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর দিল্লি দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন।
